রিদোয়ানকে উদ্ধারের দাবিতে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি।
আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে নিখোঁজের নয় দিন অতিবাহিত হলেও বিবিএ শিক্ষার্থী রিদোয়ান আনসারীর (২৫) কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার ও এলাকায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার দুপুরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রিদোয়ানের মায়ের কান্না ও স্বজনদের আহাজারিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় বক্তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রিদোয়ানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সংগঠনের সভাপতি নুর ইসলাম সত্তার, এনপিআই ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. ফারুক হোসেন, রিদোয়ানের চাচা আব্দুল হান্নান আনসারীসহ স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, একজন তরুণ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর মুক্তিপণ দাবির মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। অথচ দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে খুঁজে বের করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
রিদোয়ান আনসারীর বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামে। তিনি প্রয়াত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে। পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় থাকতেন তিনি। বিবিএ অধ্যয়নের পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পড়াশোনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে বের হন রিদোয়ান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে শাহরিয়ারের মোবাইলে ফোন আসে। পরিবারের দাবি, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে রিদোয়ানকে অপহরণের কথা জানানো হয়। তাঁকে জিম্মি করার প্রমাণ হিসেবে অল্প সময়ের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর মুক্তির বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রিদোয়ানের জীবন রক্ষার আশায় অপহরণকারীদের দেওয়া একাধিক বিকাশ ও নগদ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং পরবর্তী সময়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় রিদোয়ানের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ ২৫ অক্টোবর কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি তাঁকে উদ্ধারের জন্য র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
নয় দিন পেরিয়ে গেলেও রিদোয়ানের সন্ধান না মেলায় পরিবারে উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। স্বজন ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—যেকোনো মূল্যে রিদোয়ানকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
Leave a Reply