“স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ধুনটে এলাকাবাসীর ক্ষোভ”
আশেকে এলাহী শিবলী – ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনটে শিক্ষা সফরে গিয়ে একটি বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দ্বারা হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ২৯ জানুয়ারি ধুনট উপজেলার মুলতানী পারভীন শাহজাহান তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নাটোরের গ্রীনভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। সফর শেষে রাতে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের একটি বাসে এবং অন্যদের পৃথক আরেকটি বাসে ওঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান ছাত্রদের বাসে না উঠে একপ্রকার জোর করেই ছাত্রীদের বাসে ওঠেন এবং সামনের একটি সিটে বসেন। বাসে গান চলাকালে ছাত্রীদের আনন্দ-উল্লাসের সুযোগে তিনি উঠে গিয়ে নাচের ছলে একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ে ফিরে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ্যে না আনতে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত সভাপতির কাছ থেকে মৌখিকভাবে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার আশ্বাস নেওয়া হলেও কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগের পরও বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে নামমাত্র সমাধানের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ফলে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত সভাপতির অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। মানববন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
অভিভাবকরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতিলতা বর্মন বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply