1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন। বাঙালি জাতির আদি ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পোয়েটস্ ক্লাব- প্রাক্তন মন্ত্রী নাজিম উদ্দীন  সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র, ৯০ দিনে বিচার দাবি”

“পাহাড়ে নতুন ভোর: গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও নতুন ঘর পেয়ে স্বাবলম্বিতার পথে শতাধিক পরিবার”

  • আপডেট : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৭ জন দেখেছেন

“পাহাড়ে নতুন ভোর:
গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও নতুন ঘর পেয়ে স্বাবলম্বিতার পথে শতাধিক পরিবার”

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দারিদ্র্য, বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা বহু পরিবারের জীবনে যেন নতুন সূর্যের আলো ফুটেছে। বছরের পর বছর সীমিত আয়ে সংসার টেনে নেওয়া, পুঁজি না থাকায় স্বপ্নকে থামিয়ে রাখা,এসব বাস্তবতার মাঝেই এলো এক মানবিক সহায়তা, যা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং আত্মনির্ভরতার পথে দৃঢ় এক পদক্ষেপ।
২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়িতে অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণ এবং গৃহহীনদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
নিজ হাতে সহায়তা তুলে দিলেন জয়া ত্রিপুরা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা। তিনি নিজ হাতে উপকারভোগীদের মাঝে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ঘরের ঢেউটিন বিতরণ করেন এবং গৃহহীন পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।
সহায়তা নিতে আসা পরিবারগুলোর চোখেমুখে ছিল স্বস্তি, কৃতজ্ঞতা আর ভবিষ্যতের আশাবাদ। অনেকের মুখেই শোনা যায়,“এবার হয়তো নিজের চেষ্টায় দাঁড়াতে পারবো।”
শতাধিক পরিবারের আত্মকর্মসংস্থান:
মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে এদিন মোট ১০টি গরু বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ৫০টি পরিবারের মাঝে গরু ও ছাগল এবং ৫০টি পরিবারের মাঝে হাঁস-মুরগি প্রদান করা হয়। এছাড়া গৃহহীন ৩টি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি পরিবার সরাসরি এই সহায়তার আওতায় এসেছে।
পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক জীবিকা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও পুঁজি ও উপকরণের অভাবে বহু পরিবার সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
“আত্মকর্মসংস্থানই টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি”:
বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো আত্মকর্মসংস্থান। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এমন একটি উদ্যোগ, যা অল্প পুঁজি দিয়েই একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে। আজ আমরা যে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের জীবনমান বদলাতে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”তিনি আরও বলেন,”জেলা পরিষদের একজন ক্ষুদ্র প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। দীর্ঘদিন ধরে গবাদি পশু বিতরণ, খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান, অসহায়দের ঘরবাড়ি নির্মাণ, ঘরের টিন বিতরণ, অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, মসজিদ-মন্দির ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র ও বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ, দুঃস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন ও তাঁত সামগ্রী প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ সংস্কার, কালভার্ট ও পুকুর সংস্কারসহ খাগড়াছড়ির মানুষের যে কোনো সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করলে যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও নেই।”
উপকারভোগীদের চোখে স্বপ্নের আলো:
বেলতলী এলাকা থেকে আসা এক নারী উপকারভোগী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,“আমার স্বামীর আয় খুবই সীমিত। সংসার চালাতে কষ্ট হয়। এই গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পেয়ে আমরা এখন বাড়িতেই আয় করার সুযোগ পেলাম। জেলা পরিষদের এই সহায়তা আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।”
আরেকজন উপকারভোগী বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছি। আজ যে সহায়তা পেলাম, তা দিয়ে ছোট পরিসরে খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি। যদি সবকিছু ভালোভাবে করতে পারি, তাহলে পরিবারের জীবনমান বদলে যাবে,এই বিশ্বাস এখন মনে জেগেছে।”
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রাণিসম্পদভিত্তিক ছোট উদ্যোগ দ্রুত আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে এবং বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পথ উন্মুক্ত করে।
স্থানীয়রা জানান, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং মূলধারার অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারবে। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যখন সহায়তার সামগ্রী পৌঁছে যায় প্রান্তিক মানুষের হাতে, তখন তা শুধু একটি গরু, ছাগল বা হাঁস-মুরগি নয়,বরং হয়ে ওঠে স্বপ্নের বীজ, সম্ভাবনার সূচনা এবং নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির