“বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় শিবচরে লোকসানের মুখে কৃষক”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:-
সারাদেশের মত মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মাঠে মাঠে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। তবে হটাত করে বাজারে পেঁয়াজর দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচের অর্ধেক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
মাদারীপুর সদর, শিবচর, রাজৈর, কালকিনি ও ডাসারে ব্যাপক পেঁয়াজ আবাদ হয়। এর মধ্যে পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদ বেষ্টিত শিবচর পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনে বিখ্যাত। কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ বছর জেলায় ৪ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।
তার মধ্যে শিবচর উপজেলাতেই উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর। তবে এ বছর বাজারে পেয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সার, বীজ, কীটনাশক, দিনমজুর, জমিচাষসহ বিঘাপ্রতি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে কৃষকদের। বিঘাপ্রতি (৬৬ শতক) ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। সে হিসেবে এক মণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ২ হাজার টাকার উপরে। সেখানে এক মণ পেঁয়াজ বর্তমান বাজারে কৃষক ৭শ থেকে ৯শ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এ অঞ্চলে নেই কোনো সংরক্ষণাগার। আর কৃষকের আগাম পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমেই ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এ পণ্যটি আমদানি করে সরকার। এতেই ধস নামে দেশীয় পেঁয়াজের বাজারমূল্যে। লোকসানের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি তাদের।
উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ মাদবর বলেন, আজকে ২৬শে ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার মাদবরের চর হাটে ৮০০ টাকা দরে পেয়াজ বিক্রয় করে আসলাম। তিনি বলেন এক মন পেয়াজ উতপাদনে ২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে, এমন লোকসান এ মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কম। আমাদের মত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শিবচরে একটি কোল্ডস্টোরেজ প্রয়োজন, যাতে করে আমরা আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারবো। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কৃষক সালাম মুন্সি বলেন,এ বছর আমি তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি সার,কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরী দিয়ে মন প্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু বর্তমান বাজার মুল্য প্রতি মণ ৮ শ টাকা। আমরা কিভাবে জমি চাষ করবো, তিনি আরো বলেন পেঁয়াজের মৌসুমে যদি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী করা না হয় তাহলে কৃষকদের জন্য ভালো হয়।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলিমুজ্জামান খান জানান, সারাদেশের পেঁয়াজের চাহিদা পুরণে শিবচর উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বছর উপজেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের যথেষ্ট ভালো উৎপাদন হয়েছে। তবে দাম কম হওয়ায় কৃষক বিপাকে পড়ছেন। আমাদের কৃষি দপ্তর থেকে এ বছর পেয়াজ সংরক্ষণের জন্য উপজেলায় বেশ কিছু কৃষকের মাঝে এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরন করা হয়েছে।
Leave a Reply