“দেশজুড়ে ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসুর বিক্ষোভ”
মো: শাকিল হোসাইন জাবি প্রতিনিধি-
নরসিংদীসহ দেশব্যাপী সংঘটিত ধর্ষণ ও অরাজকতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলায় এসে মিছিলটি শেষ হয়। এসময় ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবেনা’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, তারেক জিয়া জবাব দে’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, ধর্ষকদের কবর দে’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। এসময় জাকসুর সাহিত্য সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঞ্চালনায় বক্তারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এসময় জাকসুর কার্যকরী সদস্য ফাবলিহা জাহান বলেন,
“আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার নারীদের নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা সরকারকে পাশে পাচ্ছি না। বরং সরকার এমন ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছে যারা এসব সহিংসতার সঙ্গে জড়িত। আমরা অবিলম্বে ধর্ষণ ও সহিংসতার দৃষ্টান্তমূলক বিচার বাস্তবায়নের দাবি জানাই।”
জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন,
“দেশ আজ এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যেখানে মা–বাবার কোলেও শিশু ও নারী নিরাপদ নয়। ধর্ষক ও হত্যাকারীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই—তাদের একমাত্র পরিচয় অপরাধী। আপস বা মীমাংসা নয়, দলমত নির্বিশেষে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“বারবার ধর্ষণের বিচারের দাবিতে রাজপথে দাঁড়াতে হওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অপরাধ কখনোই কমবে না।”
ধর্ষণ প্রতিরোধ ও প্রতিকার: কী করা জরুরি
সমাবেশে বক্তারা ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ আজ এই সহিংসতার শিকার হচ্ছে, যা সমাজের গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
ধর্ষণ প্রতিরোধে পরিবারভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা, শিশুদের ‘ভালো স্পর্শ–খারাপ স্পর্শ’ সম্পর্কে সচেতন করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা বিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, গণপরিবহন ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে।
ধর্ষণের ঘটনার প্রতিকারে দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীবান্ধব বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক হয়রানি বন্ধ এবং মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় কোনো ধরনের আপস বা মীমাংসা নয়—দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই একমাত্র সমাধান।
বক্তারা মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ধর্ষণ ও সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব।
Leave a Reply