“শিবচরে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা, প্রতিটি দোকানে উপচে পড়া ভিড়”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:-
পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী বেষ্টীত মাদারীপুর জেলার শিবচরে ফুটপাত থেকে বিভিন্ন শপিং মলে প্রতিটি দোকানে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটার ভিড়। রহমতের দশম রোজার শেষ হয়ে গেছে। এখন ঈদের কেনাকাটায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম এবার বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
মঙ্গলবার (৩শরা মার্চ) সকালে ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী পৌর সুপার মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ও শোরুমে ক্রেতাদের অনেক ভিড় দেখা যায়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতারা দর-কষাকষি করে ঈদের কেনাকাটা করছেন। মার্কেটের গার্মেন্টস মালিকগন বলেন, এবার ক্রেতারা বেশি দরকষাকষি করছেন গত বছরের তুলনায় সবকিছুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায়।
বিভিন্ন পোশাক ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রথম রোজা থেকে ৮ম রোজা পযন্ত বেচাকেনা কম ছিলো। এখন বেচাকেনা কিছু টা বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পুরোপুরি জমে উঠেছে ঈদের বাজার। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসলে বেচাকেনার চাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে জানান বিক্রেতারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবছরের সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায় মেয়েদের ও ছোট শিশুদের জামাকাপড়ের দোকানে। তবে এবার পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বুঝেশুনে সময় নিয়ে কেনাকাটা করছেন। গরিব অসহায় মানুষের একমাত্র ভরসা ফুটপাতের মার্কেটও ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে।
সরকারচর থেকে আশা সুরাইয়া বেগম ঈদের কেনাকাটা করতে এসে বলেন, রোজার মাঝামাঝি সময় আসলাম পরিবারের সবার জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে, সামনে মার্কেটে ভীড় আরো বাড়বে তাই আগেভাগেই কেনাকাটা শেষ করতে চাই। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় সকল কিছুরই দাম বেশি মনে হচ্ছে।
উপজেলার মালেরহাট থেকে আশা কাউয়ম শিকদার তার দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। তিনি বলেন, মার্কেটে মানুষের অনেক ভিড়। সব জিনিসের দাম দ্বিগুণ। সকালে এসেছি দুই মেয়ে, শ্বশুর, শাশুড়ি ও নিজের জন্য জামা-কাপড় কিনতে।পোশাকের দাম অনেক বেশি। এই পর্যন্ত ঘুরে শুধু মেয়ে ও ছেলের কেনাকাটা সেরেছি। বিকেলের মধ্যে সবার কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরতে হবে।
শিরুয়াইল ইউনিয়ন থেকে আশা আকবর আলী বলেন, আমার নিজের ও দুই ছেলের জন্য কেনাকাটা করতে দশ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলাম। জামা-কাপড়, জুতার এতটাই দাম, বাচ্চাদের কেনাকাটা করতে গিয়ে সব টাকা শেষ। আর নিজের জন্য কিছুই কেনা হয়নি।
উপজেলার পৌরসভা বাজারের মহুরীপর্টি সুনামখ্যাত কয়েকটি কাপড়ের দোকানের মধ্যে বনশ্রী ক্লথ ষ্টোর,শিবচর বস্ত্রালয় ও সুমন শাড়ী বিতান, এ সমস্ত দোকান থেকে নিয়মিত শাড়ী কাপুর, গজ কাপড়,থ্রি পিস কেনায় ভীড় দেখা গেছে।
বেশিরভাগ ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, ঈদ আসলে কিছু অসাধু ব্যবসয়ী পোশাকের দাম তথা সকল পণ্যের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন। তিনি আরো বলেন, দুই মাস আগে যে গজ কাপড় ১৫০ টাকায় কিনেছি, সেগুলোর দাম এখন ৩০০ টাকা দাম চাচ্ছে। গত মাসে পাকিস্তানের যেসব থ্রি পিছ ৪ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, সেগুলো এখন ৬ হাজার টাকার কম বিক্রি করতে চাচ্ছে না বিক্রেতা। এক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানাসহ শাস্তির আওয়তায় আনার দাবি জানান ক্রেতারা।
Leave a Reply