“মানিকগঞ্জে পাঁচ দিন পর উদ্ধার হলো বিচ্ছিন্ন মা’থা
মানিকগঞ্জ, ২৯ মার্চ”
আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার
মানিকগঞ্জের দিঘুলিয়া চক এলাকায় পাঁচ দিন পর একটি বিচ্ছিন্ন মানব ম’স্ত’ক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী। তবে উদ্ধার হওয়া মা”থা’টি অটোরিকশাচালক রফিক মিয়ার কিনা—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরে সোনামিয়া প্রামাণিকের ভুট্টাক্ষেতে ঘাসের মধ্যে মাথাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রিহাদ হোসেন ভুট্টা তুলতে গিয়ে দুর্গন্ধ অনুভব করেন। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি একটি কাটা মাথা দেখতে পান। সকাল প্রায় ৯টার দিকে তিনি বিষয়টি স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানান। পরে তিনি পুলিশ ও পিবিআইকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এর আগে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় অটোরিকশার লোভে ডেকে নিয়ে রফিক মিয়া নামের এক চালককে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় তিনজনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পিবিআই। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি নিখোঁজ ছিল।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, নিহত রফিক মিয়ার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারে অভিযান চালানো হলেও তখন পর্যন্ত সেটি পাওয়া যায়নি।
তদন্তে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক রফিক মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। গত ২৪ মার্চ রাতে গাঁজা সেবনের কথা বলে তাকে একটি অটোরিকশায় করে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকার কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায় তার পরিচিত তিনজন—নির্মাণ শ্রমিক রিপন, সজিব ও আরমান।
সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর আরমান প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে রফিক মিয়া মাটিতে পড়ে যান। এরপর রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে এবং অন্যরা তাকে ধরে রাখে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে দেহ ভেসে উঠলে সেটি নদীর তীরে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভোর রাতে রফিকের অটোরিকশা নিয়ে রিপন কালামপুরের দিকে চলে যায়।
২৫ মার্চ বিকেলে কালীগঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রিপন, আরমান ও সবুজকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এদিকে পাঁচ দিন পর দিঘুলিয়া চক এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাথাটি রফিক মিয়ার কিনা তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
Leave a Reply