“প্রশাসনের উদাসীনতায় ধুনটে বিপন্ন কৃষি ও পরিবেশ: মাটি দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত চিকাশি ও চৌকিবাড়ী”
আশেকে এলাহী শিবলী – ধুনট উপজেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রশাসনের নজরদারি ও মাঝে মাঝে পরিচালিত অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ মাটি খনন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের আড়ালে ফসলি জমিতে নির্বিচারে খননযন্ত্র চালিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও তা কার্যকর নয়। অভিযানের পর দু-একদিন মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও পরে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট চক্র। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—অবৈধ মাটি বাণিজ্য ঘিরে প্রশাসন ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেন ‘চোর-পুলিশ’ খেলা চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের গজারিয়া স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নাটাবাড়ি গ্রামের এক ছাত্রদল নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটা চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এদিকে চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি গ্রামের মিয়াপাড়া ও সরোয়া এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে আরেকটি প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র। অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কারণে স্থানীয় সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালির কারণে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ, এবং ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ মাটি খনন বন্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply