1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন। বাঙালি জাতির আদি ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পোয়েটস্ ক্লাব- প্রাক্তন মন্ত্রী নাজিম উদ্দীন  সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র, ৯০ দিনে বিচার দাবি”

“সরকারি ভর্তুকিতে ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দকৃত হারভেস্টার ‘উধাও’! বারহাট্টায় কৃষকের বুকফাটা হাহাকার”

  • আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৩ জন দেখেছেন

“সরকারি ভর্তুকিতে ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দকৃত হারভেস্টার ‘উধাও’! বারহাট্টায় কৃষকের বুকফাটা হাহাকার”

পলাশ পাল,জেলা প্রতিনিধি

কৃষি এবং কৃষকের জন্য সরকারিভাবে ভর্তুকির মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বিভিন্ন সময় কৃষকদের মাঝে ইউনিয়ন ভিত্তিক হারভেস্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি অফিস কর্তৃক দেওয়া সর্বশেষ তথ্য মতে উক্ত উপজেলায় বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার সংখ্যা ২৫, এর মধ্যে হাওর অঞ্চলে ৭০ শতাংশ এবং সমতল এলাকায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এসব মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।কিন্তু কৃষকের বর্তমান প্রয়োজনে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না একটিও। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বর্তমানে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে, যেখানে কৃষকের ঘরে নতুন ধান ওঠার আনন্দে যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা।কারণ ধান কাটার এই মৌসুমে আবহাওয়া এখনো প্রতিকুল। অধিকাংশ পাকা ধানের ফসলি জমিতেই জমে আছে পানি। তাছাড়া যেকোনো সময় প্রকৃতি আরো বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে জমির পাকা ধানগুলো,তাই দ্রুত ফসল ঘরে তোলার জন্য প্রয়োজন প্রচুর শ্রমিক অথবা হারভেস্টার। কিন্তু ইতিমধ্যে উক্ত উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি ভর্তুকিতে পাওয়া কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের রয়েছে রহস্যজনক দুষ্প্রাপ্ততা।এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ভর্তুকির হারভেস্টার না পেয়ে পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে বারহাট্টার কৃষক।
মাঠে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও কাটার কোনো উপায় পাচ্ছেন না তারা। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষককে বুকসমান পানিতে নেমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে সনাতন পদ্ধতিতে ধান কাটতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এত বেশি পরিমাণ মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে ধান কাটতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। এব্যাপারে
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. জিনিয়া জামান জানান, উপজেলায় ২৫টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন রয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কৃষকদের অভিযোগ, চরম প্রয়োজনের সময় মাঠে একটি মেশিনেরও দেখা মিলছে না। তাদের দাবি,কাগজে-কলমে মেশিনগুলো বারহাট্টায় থাকলেও বাস্তবে সেগুলো নিদিষ্ট অবস্থানে নেই। বেশি লাভের আশায় কিছু মালিক বরাদ্দ কৃত মেশিনগুলো ভাটি অঞ্চলে নিয়ে গেছেন। এমনকি কিছু মেশিন গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার কৃষক দের ভাষ্য অনুসারে, মাঠে ধান পেকে গেছে, কিন্তু কাটার কোনো উপায় নেই। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর যারা আছে তারা অনেক বেশি মজুরি চায় যা, ক্ষুদ্র কৃষকের পক্ষে এত ব্যয়বহন করে পাকা ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।কৃষি অফিসের তথ্য মতে সরকার দ্রুত ধান কাটার মেশিন দিয়েছে বলে এতদিন শুনে আসছি কিন্তু আমরা বর্তমানে আমাদের এই দুঃসময়ে কোনো মেশিনই দেখতে পাচ্ছি না।যদি মেশিনগুলো মাঠে পাওয়া যেত তাহলে হয়তো অনেকটা ঝুঁকিহহীন ভাবেই পাকা ধানগুলো খুব দ্রুত সময়ে মধ্যে ঘরে তোলা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা হারভেস্টারগুলোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে কয়েকদিন সময় লাগবে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারের বড় বিনিয়োগ তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রান্তিক কৃষক সঠিক সময়ে এর সুবিধা পাবেন। প্রয়োজনের সময় যন্ত্রপাতি মাঠে না থাকলে পুরো উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
বর্তমান এই সংকট নিরসনে দ্রুত তদন্ত করে ভর্তুকির মেশিনগুলোর প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করে এবং সেগুলো দ্রুত মাঠে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে কালক্ষেপণ করলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির