“মির্জাগঞ্জে চলছে অবাধে খাল দখল, কৃষকের প্রাণের দাবি খালটি পুনঃখনন”
মোঃ সাকির হাওলাদার,
স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল বিভাগ।
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৫নং কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্যস্থান গাজীপুরা ইসমাইল মেমোরিয়াল মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী (গাজীপুরা বৈদ্যপাশা) গাজীপুরা বাজার হইতে শুরু করে পশ্চিমে গাজীপুরা দাখিল মাদ্রাসা, সাথে উত্তর দিকে মধ্য বৈদ্যপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৫.৫কিঃমিঃ খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা ও গাছ রোপণ করে পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়ন রাজনীতিতে খাল খনন একটি পরিচিত শব্দ এর তাৎপর্য শুধুমাত্র অবকাঠামোগত নয় বরং রাজনৈতিক দর্শনও বটে।ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯দফা কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু খাল খনন একটি প্রকল্পই ছিলনা; এটা ছিলো রাষ্ট্রের কৃষিভিত্তিক পূর্ণ গঠনের একটা কৌশল। বর্তমান সময়ের খাল খনন খাদ্যনিরাপত্তা গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতির পুনঃজাগরণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।
তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও পুনঃখনন চলছে। কৃষক এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির চাকা চলমান করার চেষ্টা।
স্থানীয় কৃষক মোঃ হামিদ বলেন আমাদের খালটি যদি পুনরায় খনন করা হয় তাহলে ফসল বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে আমরা প্রায় শতাধিক কৃষক সম্মিলিত ভাবে ধান, মুগ, সুর্যমুখী, বাদাম, মরিচ, ভুট্টাসহ একাধিক ফসল চাষাবাদ হচ্ছে, এর ব্যায় হিসাব করলে দেখা যায় ফলন যা আসবে তাতে সমান সমান থাকা কষ্ট। তাই খালটি পুনঃখনন করলে এলাকার চাষিরা দ্বিগুণ ফসল পাবে বলে আশা করছে।
বৈদ্যপাশা এলাকার গ্রাম পুলিশ মোঃ বাদশা মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি পুনঃখনন হলে কৃষক সঠিক সময়ে চাষাবাদ করে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবে।
এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জনাব কামাল হোসেন (বাবুল) দৈনিক স্বদেশের কন্ঠ কে জানান এই খালটি দীর্ঘ বছর ধরে খনন না হওয়াতে পুরোপুরি ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে সম্পূর্ণ প্রভাব কৃষির উপরে পরেছে।যেমন সহজে পানি পাওয়া যায়না, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির ফলে বিভিন্ন প্রকার শস্যাদি পানিতে পচে যায়। এ থেকে কৃষকদের বাঁচাতে গাজীপুরা বৈদ্যপাশা খালটি পুনঃখনন অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে।
খালটি যাতে পুনঃখনন করা হয় তাহার জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন মৌসুমে সার, বীজ ও কীটনাশক দিয়ে থাকে। অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে প্রতিবছর বিভিন্ন বীজ সহ অন্যান্ন সামগ্রী বেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই খালটি খনন করা হলে হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।
ছবি আছে
Leave a Reply