“ভেকু ভাঙার জেরে টঙ্গীবাড়ীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবদল নেতা”
“মুন্সিগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি”
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে অবৈধভাবে ফসলি জমি কাটার ঘটনায় প্রশাসনের অভিযানের পর দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার( ১৮ মে) আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, রোববার বিকেলে উপজেলার সিদ্দেশ্বরী বাজারের পূর্ব পাশে রাউৎভোগ বিল এলাকায় অবৈধভাবে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমি কাটার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াজেদ ওয়াসিফ। অভিযানে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনটি ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের অভিযানে ভেকু মেশিন বিনষ্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিদ্দেশ্বরী বাজার এলাকায় টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি ফিরুজ আলম বিপ্লব এবং দৈনিক সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হোসেন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফিরুজ আলম বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক, ছাত্রদল নেতা সজিব রায়হান, পাচগাঁও ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, পাচগাঁও ইউনিয়ন যুবদল নেতা সোহেল মোল্লাসহ ১০-১২ জন আমার চাচা শাহিন শেখের দোকানে এসে অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমাকে মারধর করে।”
আহত সাংবাদিক হোসেন হাওলাদার বলেন, “ইকরাম মল্লিক আমাকে ফোন করে সিদ্দেশ্বরী বাজারে ডেকে নেয়। সেখানে নিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে আরও ১০-১৫ জন লোক ছিল। তারা অভিযোগ করে, আমরা প্রশাসনকে ভেকুর তথ্য দিয়েছি।”
হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তারা চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের মারধর করিনি, শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Leave a Reply