“ডিসি অফিসের নির্বাহী আদালতেই ঘুষের রমরমা! বিচারপ্রার্থীর হাজিরা-জবাব ছুড়ে ফেলা হলো ডাস্টবিনে, বেঞ্চ ক্লার্কের বিরুদ্ধে তোলপাড়”
খুলনা জেলা প্রতিনিধি
ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ আশ্রয়স্থল খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্বাহী আদালত ‘ক’ অঞ্চলেই এখন চলছে ঘুষ বাণিজ্য। বিচারপ্রার্থীর গুরুত্বপূর্ণ হাজিরা ও জবাবপত্র মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আদালত পাড়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফুলতলা থানার এমপি-৪০৯/২৫ নং মামলায় বরিশাল থেকে আগত কয়েকজন অসহায় নারী বিচারপ্রার্থী আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা ও জবাব জমা দেন। অভিযোগ উঠেছে, বেঞ্চ ক্লার্ক সুপ্রভাত মন্ডল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে ওই গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে ফেলেন।
আদালত চলাকালে যখন দ্বিতীয় পক্ষের ডাক পড়ে, তখন ওই বেঞ্চ ক্লার্ক বুক ফুলিয়ে বলেন, “আপনাদের জবাবও নাই, হাজিরাও নাই।” এ কথা শুনে উপস্থিত বিচারক হতভম্ব হয়ে পড়েন। আইনজীবীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। ন্যায়বিচার চাইতে আসা অসহায় নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আদালত শেষে তল্লাশি করে ওই হাজিরা ও জবাব উদ্ধার হয় আদালতেরই ওয়েস্ট বক্স থেকে।
এই জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদে আইনজীবী সমিতির ৪নং হলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। খবর পেয়ে অভিযুক্ত বেঞ্চ ক্লার্ক সেখানে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বৃহত্তর খুলনা ল’য়ার্স জার্নালিস্ট কাউন্সিল ও ‘বেসরকারি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ ফোরাম’। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্ত বেঞ্চ ক্লার্কের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আদালতের মতো পবিত্র স্থানে যদি ঘুষের কারবার চলে, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে একজন বেঞ্চ ক্লার্কের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রমাণ করে দুর্নীতি কতটা গভীরে শেকড় গেড়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীকে আইনের আওতায় না আনা হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের শেষ আস্থাটুকুও নষ্ট হয়ে যাবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময়।
খুলনা জেলা।
Leave a Reply