“হল সংসদের উদ্যোগে জাবির শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে পূর্ণাঙ্গ জিমনেসিয়াম উদ্বোধন”
মোঃ শাকিল হোসাইন, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল সংসদের উদ্যোগে হলের কমনরুমে পূর্ণাঙ্গ জিমনেসিয়াম উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন ক্রয়কৃত ১০টি এবং পূর্বের ৪টি জিম ইকুইপমেন্ট, বড় আয়না ও ওজন পরিমাপক মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে জিমনেসিয়ামটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় হলের কমনরুমে জিমনেসিয়ামটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় হল সংসদের সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহীকে জিমনেসিয়ামের যাবতীয় ইকুইপমেন্ট হস্তান্তর করেন হল সংসদের কমনরুম সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন।
উল্লেখ্যযোগ্য ইকুইপমেন্টের মধ্যে রয়েছে– স্পিনিং বাইক, এফআইডি বেঞ্চ, বারবেল ও ওয়েট প্লেট ২৫ কেজি, স্টিক, টি-বার, পুল-আপ বার, পাওয়ার রেক, স্কিপিং রোপ, ডাম্বেল বিভিন্ন সাইজের এক সেট ইত্যাদি।
এ সময় কমনরুম সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বলেন, “হলের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই কমনরুমে জিমনেসিয়ামটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ১০টি ইকুইপমেন্টের পাশাপাশি পূর্বের ৪টি ইকুইপমেন্টকে সমন্বয় করে এখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আশা করি– ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী জিমনেসিয়ামের সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা চলমান থাকবে।”
হল সংসদের সভাপতি (ভিপি) মোহা. সিফাতুল্লাহ বলেন, “আমাদের হলের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য একটি কার্যকর জিমনেসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য হল সংসদ চালুর পর থেকে একটি মানসম্মত জিমনেসিয়াম চালু করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অবশেষে, হল সংসদের সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষ স্যারের ফান্ড প্রদানের আমরা এটি করা সম্ভবপর হয়েছে। এজন্য হল সংসদের পক্ষ থেকে স্যারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে জিমনেসিয়ামটি ব্যবহার করবেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত হবেন।”
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, “শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। হল সংসদ চালু হওয়ার পর থেকে এটি স্থাপনের দাবি জানিয়ে এসেছিল কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় তখন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। অবশেষে, হল ফান্ড থেকে জরুরিভিত্তিতে জিমনেসিয়ামটি চালু করা হয়েছে। জিমনেসিয়ামটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় হলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীরচর্চার জন্য আরও ভালো সুযোগ পাবেন। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়ম মেনে ও যথাযথভাবে ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হল সংসদের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জিমনেসিয়ামটি চালু হওয়ায় এখন থেকে হলের শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় এটি ব্যবহার করে শরীরচর্চা করতে পারবেন।
Leave a Reply