“খুলনার কয়রায় ভাসমান হাসপাতালে মিলছে বিনামূল্যে চিকিৎসা,স্বস্তিতে উপকুলবাসী”
মোক্তার হোসেন,খুলনা জেলা প্রতিনিধি
ভোরের আলো ফোটার আগেই শাকবাড়িয়া নদীর পাড়ে মানুষের লম্বা সারি। গন্তব্য নদীতে নোঙর করা একটি হাসপাতাল। খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়নি গ্রামে নোঙর করা ‘কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ’ ভাসমান হাসপাতালের সামনের এই দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।
দুর্গম উপকূলীয় কয়রায় চিকিৎসাসেবার সংকট অনেক পুরনো। উপজেলা সদরের হাসপাতাল অনেকের জন্য দূর। আর জেলা হাসপাতাল প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দূরে। যোগাযোগের অভাবে সময়মতো চিকিৎসা মেলে না। এমন বাস্তবতায় গত ১৫ জুলাই থেকে এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তি হয়ে এসেছে ভাসমান এই হাসপাতাল।
ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখানে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি দাঁত ও চোখের চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হচ্ছে।
কয়রা সদরের গোবরা গ্রামের জাহানারা পারভীন পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “ভালো চিকিৎসা হয় শুনে এসেছি। এখানে ওষুধও ফ্রি পাওয়া যায়।” বাগালী ইউনিয়নের বয়স্ক রোগী লতিকা ঘোড়ামীও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে খুশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন সহকারী, চারজন টেকনোলজিস্ট ও একজন ফার্মাসিস্টসহ মোট ২২ জন কর্মী কাজ করছেন।
ফ্রেন্ডশিপের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আক্তার জানান, হাসপাতালটি আরও ৩ থেকে ৪ মাস কয়রায় অবস্থান করবে। এই সময়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে নিয়মিত বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে।
সুন্দরবন ইকো-রিজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভের সমন্বয়ক সাংবাদিক তারিক লিটু বলেন, “সুন্দরবনবেষ্টিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা বড় চ্যালেঞ্জ। ভাসমান হাসপাতালের মতো উদ্যোগ সারা বছর চালু থাকলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে।
মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারীও একই কথা বলেন। তিনি মনে করেন, কয়েক মাসের জন্য হলেও এই সেবা উপকূলের মানুষের জন্য বড় প্রাপ্তি।
নদীর বুকে ভেসে থাকা এই হাসপাতাল এখন কয়রার প্রত্যন্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।
মোক্তার হোসেন।
খুলনা
Leave a Reply