“৮১ কিলোমিটারের রেলপথে মুরাদনগর উপেক্ষিত! স্টেশনের দাবিতে রাজপথে জনতার প্রতিবাদ”
সাইদুজ্জামান ভুইয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে রেলস্টেশন স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। প্রস্তাবিত শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথে তিতাস ও দেবিদ্বারে স্টেশন রাখার প্রস্তাব থাকলেও ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল মুরাদনগরে কোনো স্টেশন না রাখার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, উন্নয়নের এত বড় একটি প্রকল্পে মুরাদনগরকে বাদ দেওয়া হলে এ অঞ্চলের মানুষ রেল যোগাযোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মুরাদনগরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, রেল যোগাযোগ একটি এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ, ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় মুরাদনগরকে প্রস্তাবিত রেলপথের স্টেশন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত না করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রায় ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো রেলপথটি এলিভেটেড বা উড়ালপথে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে তিতাস ও দেবিদ্বারে রেলস্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব থাকলেও মুরাদনগরের নাম না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ মুরাদনগর কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং মোঃ মোতাহের হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন আরো বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ মুরাদনগর কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি আব্দুল আজিজ মোল্লা, বাঁশ কাইট ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ডিগ্রি কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমির হোসেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক একেএম সিরাজুল ইসলাম কাইয়ুম, নির্বাহী সদস্য একেএম কায়েস, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, কাজি আব্দুলt সালাম, কামরুজ্জামান,দুবাই প্রবাসী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গাজী, বাঁশ কাইট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, পি জে উচ্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু তাহের,শরমাকান্দা মাদ্রাসার শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন , বিএনপি নেতা তছলিম আহম্মেদ খোকন, সোহেল সিকদার প্রমুখ
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুরাদনগর একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এখানে রয়েছে বিপুল জনগোষ্ঠী, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। উপজেলার অসংখ্য মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। একটি রেলস্টেশন স্থাপন করা হলে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তারা আরও বলেন, রেলপথ নির্মাণের মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, আশপাশের জনপদের মানুষের প্রয়োজন ও যাতায়াতের সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবিত রেলপথের নকশা ও স্টেশন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে মুরাদনগরে একটি রেলস্টেশন অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তাদের প্রত্যাশা, জনগণের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় মুরাদনগরকে অন্তর্ভুক্ত করবে সরকার। অন্যথায় উন্নয়নের এমন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
Leave a Reply