“নাটোরের বনপাড়ায় বৃদ্ধা মমতাজ বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকারী গ্রেফতার”
মোঃ আমজাদ হোসেন (নাটোর)বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সরদারপাড়ায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মমতাজ বেগম (৭৫) হত্যা মামলার রহস্য ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ঘাতক ফাউজিয়াকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, আটককৃত ফাউজিয়া সরদারপাড়ার হেদায়েতুল্লাহ মাওলানার বড় ছেলে ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের মেয়ে। নিহত মমতাজ বেগম তার দাদি ছিলেন। পারিবারিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণালঙ্কারের লোভে ফাউজিয়া নিজের দাদিকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ঘটনার পর থেকেই ফাউজিয়া পলাতক ছিল। বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার গতিবিধি ট্র্যাক করে। অবশেষে বুধবার রাত ১১টার দিকে নাটোর শহরের হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফাউজিয়া ও তার কথিত স্বামী মিনারুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ফাউজিয়া স্বীকার করে, সে দাদির কাছ থেকে গহনা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে যায়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সে মমতাজ বেগমকে মুখ ও মাথায় আঘাত করে এবং একের পর এক আঘাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর আলমারি থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে চুরি করা গহনা বিক্রি করে মিনারুলের সঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা করছিল।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ চলাকালীন সময়ে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন বনপাড়া সরদারপাড়ার মরহুম ইঞ্জিনিয়ার শফিউল্লাহ মিয়ার সহধর্মিণী মমতাজ বেগম। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত তদন্ত শুরু করে। পুলিশের তৎপরতায় মাত্র তিন দিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও মূল আসামি গ্রেফতারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ বলেন, “আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় আমরা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ফাউজিয়া হত্যার দায় স্বীকার করেছে।”
নিহত মমতাজ বেগমের পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply