“বানিয়াচঙ্গে দালাল মুক্ত এসিল্যান্ড অফিস চাওয়াই কি এসিল্যান্ডের অপরাধ”
বিশেষ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমাঈল রহমানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে তদবির বাণিজ্যের সাথে জড়িত একশ্রেণীর দালালচক্র। সোমবার সকালে তারা বানিয়াচঙ্গের বড়বাজারস্থ শহীদ মিনারে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এতে বানিয়াচংবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ৮মাস পূর্বে বানিয়াচং-এ এসিল্যান্ড হিসেবে ইসমাঈল রহমান আসার পর এসিল্যান্ড অফিসে তদবির বানিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
আগে যেই নামজারি করতে পাঁচ-সাত হাজার টাকা লাগতো এখন শুধু সরকারি ফি হাজার খানেক টাকা দিয়েই নামজারি করেন তিনি। এছাড়াও উনার অফিসের কাজ কর্ম উনি শৃঙ্খলার সাথে নিয়ম মেনে করে থাকেন।
ফলে উনাকে একজন ভদ্র, সজ্জন, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাবী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেই সবাই জানে। সে হিসেবে উপজেলায় তার রয়েছে যথেষ্ট সুনাম।
এদিকে কিছু তদবিরবাজ লোক স্বৈরাচারী আমলের ন্যায় দীর্ঘদিন ধরে উনার কাছে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে আসছিলো। তাদের কয়েকজনের ভূয়া কাগজে নামজারীসহ কিছু অনৈতিক আবদার ছিলো। কিন্তু তিনি এসব অন্যায়ের প্রশ্রয় দেননি। ফলে এসব দালালেরা কোনঠাসা হয়ে এসিল্যান্ডের উপর ক্ষুব্ধ হয়।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী চেয়ারম্যান শূন্য ১ নং বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন এই এসিল্যান্ড।
এক্ষেত্রে উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান না থাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ভূয়া ওয়ারিশান সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য কিছু সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে নেয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে এরকম কিছু বিষয় ধরাও পরেছে।
যার দরুন এসিল্যান্ড অধিকতর যাচাই বাছাই করে এসব সমস্যার নিস্পত্তি করছেন। ফলে এসব অসাধু ব্যাক্তিদের একটি বড় অংশ উনার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে।
তবে ১ নং ইউপি অফিসে চেয়ারম্যান না থাকায় ইউপি অফিসের সেবা পেতে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একাধিক কাজের চাপে এসিল্যান্ড মানুষের চাহিদা মতো সময় দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা যায়। এক্ষেত্রে এসিল্যান্ড ইউপি মেম্বারদের মধ্যে একজনকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য বারবার বলে আসলেও মেম্বারদের মতানৈক্যের কারণে তা হচ্ছে না।
এদিকে সম্প্রতি বানিয়াচং-এর একজন আলেম (বক্তা) এসিল্যান্ড অফিসে নামজারীর জন্য আবেদন করলে এসিল্যান্ড তা শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করে ঐ তারিখে সকাল ১০টায় আসতে বলেন। কিন্তু ঐ বক্তা সঠিক সময়ে না এসে বিকেল ৫টার দিকে শুনানি করতে আসেন। এতে এসিল্যান্ড উনাকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুজুর ক্ষিপ্ত হন এবং এসিল্যান্ডের সাথে তর্কে জড়িয়ে পরেন এমনকি হুজুর মেজাজ হারিয়ে এসিল্যান্ডকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন।
জানা যায় ঐ হুজুরের ভাই বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই প্রভাবে তিনি এসিল্যান্ডের সাথে ক্ষমতা দেখিয়ে গেলেন।
অন্যদিকে এসিল্যান্ডের সাথে ঐ হুজুরের অসৌজন্যমূলক আচরণকে কাজে লাগিয়ে এবং এটিকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে ঐ অসাধু দালালচক্র উক্ত হুজুরকে সাথে নিয়ে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়। এমনকি তারা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জন্য রবিবার বানিয়াচঙ্গে মাইকিং করায়।
ফলে উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচেতন নাগরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে।
Leave a Reply