“রাজনীতির মাঠে নতুন বাস্তবতা — ক্ষমতার খেলায় জনস্বার্থ কোথায়”
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলই মাঠে নেমেছে, তবে লক্ষ্য ও কৌশলে তফাৎ স্পষ্ট। জামায়াত আজ সাংগঠনিকভাবে আরও সুসংহত, ঘরে ঘরে যোগাযোগ রক্ষা করছে, ভোটের ময়দানে সক্রিয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যস্ত। অপরদিকে বিএনপি অনেকটা ছত্রভঙ্গ অবস্থায়—রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি শালিশ, দখল, স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তার, এমনকি প্রশাসনিক সংযোগ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছে।
এই দুই দলের কর্মকাণ্ডে একটি মিলও স্পষ্ট—সকলেই “দেশসেবা”র নামে ক্ষমতার রাজনীতি করছে। মাঠে তাদের উপস্থিতি থাকলেও, লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নয়; বরং ভবিষ্যৎ ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি। জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট বা শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়—কোনোটিই যেন তাদের চিন্তার বিষয় নয়।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, জামায়াতের রাজনৈতিক আচরণে এক নতুন নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাহারা দেওয়া, প্রসাদ গ্রহণ করা, ধর্মীয় সম্প্রীতির অভিনয়—সবই এখন তাদের রাজনৈতিক পুঁজি সংগ্রহের কৌশল। একসময়ের ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতীক দলটি আজ ক্ষমতার আশায় বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করছে।
এই প্রবণতা আমাদের রাজনীতির অন্তর্নিহিত সংকটকে স্পষ্ট করে—নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ আজ বিলুপ্তপ্রায়। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আস্থা অর্জনের পরিবর্তে কৌশলগত নাটক সাজিয়ে যাচ্ছে। ভোটের রাজনীতি এখন আর আদর্শের নয়, বরং অবস্থান ও সুবিধা ধরে রাখার প্রতিযোগিতা।
দেশের মানুষ আজ প্রশ্ন করছে—এই রাজনৈতিক নাটকের শেষ কোথায়? কে আসলে জনগণের প্রকৃত সেবক? যখন সব দলই ক্ষমতার আশায় একই পথ ধরে হাঁটে, তখন গণতন্ত্রের আসল চেতনা হারিয়ে যায়।
সত্যিকার অর্থে দেশের প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি, যারা ক্ষমতার নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতি করবে। তবেই রাজনীতির মাঠে ফের প্রতিষ্ঠিত হবে জনগণের আস্থা, আর রাষ্ট্র ফিরে পাবে নৈতিক ভিত্তি।
লেখক–
শিক্ষক ও সাংবাদিক
sharifsstyle@gmail.com
Leave a Reply