“নদ-নদীকে দখল ও দূষণ থেকে বাঁচানোর দাবি জনউদ্যোগের”
রহমতুল্লাহ,শহরপ্রতিনিধি,খুলনা।
জনউদ্যোগের সংবাদ সম্মেলনে দখল ও দূষণের কবল থেকে ২২টি খাল সংস্কার ও খনন করার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে রূপসা, ভৈরবব ও ময়ূর নদীকে বাঁচাতে সরকার ও বিভিন্ন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দাবি জানিয়েছেন, খুলনা শহর ও আশপাশের দূর করতে প্রাকৃকিতিকভাবে নদী, খাল, জলাশয় সংরক্ষণ করে জলবদ্ধতা নিরসন, তলদেশের পানি রিচার্জ, লবণাক্ততার প্রভাব ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর চশমা মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব নদ-নদী ও খালগুলো ভয়াবহ দূষণ ও দখলের শিকার, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। অপরিকল্পিতভাবে নদ-নদী ও খাল খননের কারণে নব্য কমে গেছে। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। অনেক ক্ষেত্রে বুড়িগঙ্গারমত ভয়াবহ হওয়ার আশাঙ্কা করা হচ্ছে। এসব খাল ও নদ-নদীতে বর্জ্য ফেলানোর ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে ফেলেছে। বাড়ছে ক্ষার ও অম্লের পরিমাণ।
স্বাধীনতার পর থেকে খুলনায় নদী ও খাল দখলে মহোৎসব চলে আসছে। দখল ও দূষণের কারণে একাধিক নদী যেমন সংকুচিত হয়ে আসছে, অন্যদিকে বাড়ছে পানি দূষণ। নগরীর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপো ভৈরব নদ ও রূপসা নদীর পানি দূষিত করে চলেছে। খুলনা অঞ্চলের নদ-নদীগুলোয় অতিরিক্ত পলি জমে চর পড়েছে। নগরীর পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভৈরব-রূপসা নদীর ২২ কিলোমিটার জায়গা অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নৌচলাচল ঝুকিপূর্ণ থাকায় ২৯টি নৌপথে যান চলাচল বন্ধ হয়েছে।
খুলনা শহরের পশ্চিম দিকে ৯কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ময়ূর নদ প্রবাহিত। কেসিসি এধাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও দখলমুক্ত করতে পারেনি এ নদ। অনুমতি ছাড়াই লবণচরা থেকে ফুলতলা দীঘলিয়া সীমান্তবর্তী মজুদখালি এলাকা পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে সহস্রাধিক ছোট-বড় দোকানপাট গড়ে উঠেছে। প্রভাবশালীরা বিভিন্ন কলাকৌশলে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জনউদ্যোগের নারী সেল আহ্বায়ক শামিমা সুলতানা শীলা। উপস্থিত ছিলেন, সদস্যসচিব মহেন্দ্র নাথ সেন, দক্ষিণ অঞ্চল উন্নয়ন পরিষদের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রবীন বান্ধব সংঘের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম সিকদার, দীপ্ত ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী পল অসিম বিশ্বাস, এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম, এম এ সবুর, সরদার আবু তাহের,সাগর সরকার প্রমুখ।
Leave a Reply