“খুলনায় বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ”
রহমাতুল্লাহ, খুলনা শহর প্রতিনিধি
মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে যে পেঁয়াজের দাম ছিল ৭৫-৮০ টাকা, এখন একশ’ ১০টাকা থেকে একশ’ ২০টাকা। এমন দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতা। আড়তদারেরা বলছে, মৌসুম শেষ ও আমদানি কম। ভারতীয় আমদানি বন্ধ। খুচরা বিক্রেতারা বলছে কি কারণে দাম বেড়েছে সঠিক কারণ জানি না। ক্রেতাদের অভিযোগ মজুদ সিন্ডিকেট আর ঠুনকো অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে এ পণ্যের দর।
গতকাল বুধবার নগরীর ময়লাপোতা, গল্লামারী সহ বিভিন্ন বাজারের এমন চিত্র দেখা যায়। বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজের খুচরা মূল্য একশত ১০ টাকা থেকে একশত ২০ টাকা। তবে ছোট পেঁয়াজ বা নি¤œমানের এপণ্যের দর একশত টাকাও মিলছে হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে। অন্যদিকে সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজারের আড়তে এ পণ্য ৯৫ টাকা থেকে একশত পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে আকারভেদে এ পণ্যের দামের ব্যাবধান ১৫-২৫ টাকা। বাড়তি দরের কারণে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারে আসা ক্রেতা আ. রহমান বলেন, ৮০ টাকা দরের পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা এর উল্লেখযোগ্য কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। এটা সিজনাল কারণে নাকি সিন্ডিকেটে কারণে বাড়ানো হয়েছে।
গল্লামারী বাজারে বাজার করতে আসা আজিজুল ইসলাম বলেন, দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হয়। আয়-ব্যায় হিসেব করে চলতে হয়। সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যায়। তাতে মাঝে মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় পণ্যে দাম হটাৎ বেড়ে যায়। তাতেই হিমশিমে পড়তে হয় আমাদের।
সোনাডাঙ্গা পাইকারি আড়তে মেসের জন্য পুরো মাসের পেঁয়াজ, রসুন, আদা ক্রয় করতে আসছিলেন উর্মিলা ও তার বান্ধবিরা। তারা বলেন, দাম বেশি থাকার কারণে চাহিদার তুলনায় কয়েক কেজি কম ক্রয় করেছি। একশত পাঁচ টাকা দরে ৩০ কেজি পেঁয়াজ নিয়েছি।
ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারের খুচরা বিক্রেতা আলতাফ বলেন, সিজন শেষ এ কারণে দাম চড়া। দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে দাম বাড়বে ছাড়া কমবে না। দাম বেশি থাকলে বেঁচাকেনা কমে যায়। দাম বাড়ার পরে মাত্র ৫০ কেজি পেঁয়াজ কিনেছি। অর্ধেকেরমত বিক্রি হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভারতীয় এলসি বন্ধ। দেশি পেঁয়াজের আমদানি কম। প্রান্তিক পর্যায়ে নতুন পেঁয়াজ রোপণ শুরু হয়েছে। যদি ভারত থেকে আমদানি করা যায় তবে কমবে এ পণ্যের দাম। বাড়তি দরে বেঁচাকেনা অনেক কমেছে। পূর্বে প্রতিদিন ১০-১৫ মণ সর্বনি¤œ বিক্রি হতো। এখন হচ্ছে দুই থেকে তিন মণ।
এ আড়তের সালাম বাণিজ্য ভান্ডারের লাল মিয়া বলেন, ৪০-৪৫ দিন পরে দাম কমতে পারে। কেননা সেসময় থেকে এ পণ্য বাজারে আসতে শুরু করবে। ফরিদপুর জেলাসহ অন্য জেলা থেকে আমরা পেঁয়াজ কিনেছি।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর খুলনার ফিল্ড অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাজারে আমদানি কম। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ। এ কারণে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে মূল্য কমতে শুরু করবে।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারে যাদের পুরাতন ছিল বা সঞ্চয় ছিল সেগুলো আসছে। পেঁয়াজের চারা রোপণ প্রস্তুতি চলছে। অল্প কয়েকজন শুরু করেছে। ব্যাপক হারে শুরু হতে ১৫-২০ দিন লাগবে। ২৮০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন দুই হাজার তিনশ’ ৪৬ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা। গত বছরও একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
Leave a Reply