“ফরহাদের কেঁচো সারে ফুলবাড়ীতে কৃষির সবুজ বিপ্লব”
আশরাফ,উপজেলাপ্রতিনিধি,ফুলবাড়ি,কুড়িগ্রাম।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা ফরহাদ আল মামুন নিজের খামারের গরুর গোবর ব্যবহার করে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে স্থানীয় কৃষিতে জৈব সারের এক নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে, যা কৃষি খাতে এক ধরনের নবজাগরণ এনে দিয়েছে।ছয় মাস আগে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় “অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্প এর আওতায় তিনি কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রদর্শনী শুরু করেন। শুরুতে ১০টি রিং ও ৪টি চেম্বার স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করেন ফরহাদ। প্রথম ধাপেই সফল হয়ে বর্তমানে নিজ উদ্যোগে আরও ৩০টি রিং স্থাপন করেছেন তিনি। এখন তিনি প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ মণ কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এতে শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন। ফরহাদের সাফল্যের খবরে এখন দূর-দূরান্তের কৃষকরা তার খামারে ভিড় করছেন। কেউ সরাসরি সার কিনছেন, কেউ আবার উৎপাদন প্রক্রিয়া শিখে নিচ্ছেন।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন,ফরহাদের খামারে গোবর দেখে আমি তাকে ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী নেওয়ার পরামর্শ দিই। প্রথমবারেই সে সফল হয়। এরপর নিজ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়িয়ে এখন সে একজন সফল উদ্যোক্তা।স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ও বাদশা মিয়া জানান,আমরা আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম, এতে জমির ক্ষতি হচ্ছিল আর ফলনও কমে যাচ্ছিল। এখন ফরহাদের তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে জমির উর্বরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি ফলনও বেশি হচ্ছে।উদ্যোক্তা ফরহাদ আল মামুন জানান,আগে খামারের গোবর নষ্ট হতো। কৃষি অফিসের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করি। এখন নিয়মিত উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন,আমরা প্রকল্পের আওতায় ৩০ জন উপকারভোগীকে প্রদর্শনী দিয়েছিলাম উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে। ফরহাদ তাদের মধ্য থেকে সফলতা অর্জন করে একজন স্বনির্ভর উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। তার উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট কৃষিতে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করবে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করবে এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনবে।তিনি আরও জানান,ভবিষ্যতে ফরহাদের মতো সফল উদ্যোক্তাদের সারের বাজারজাতকরণেও আমরা সহায়তা করব, যাতে তারা বাণিজ্যিকভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতে পারেন।ফরহাদের এই উদ্যোগ শুধু ফুলবাড়ী নয়, পুরো কুড়িগ্রামের কৃষি উন্নয়নে এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply