1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন। বাঙালি জাতির আদি ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পোয়েটস্ ক্লাব- প্রাক্তন মন্ত্রী নাজিম উদ্দীন  সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র, ৯০ দিনে বিচার দাবি”

“খুলনার গল্লামারী সেতুটি দুর্ভোগের প্রতীক, হতাশায় পথচারী ও নগরবাসী”

  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ জন দেখেছেন

“খুলনার গল্লামারী সেতুটি দুর্ভোগের প্রতীক, হতাশায় পথচারী ও নগরবাসী”

মোক্তার হোসেন, খুলনা জেলা প্রতিনিধি

খুলনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ দ্বার গল্লামারী সেতু। নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার পাশাপাশি দুইপাড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
কোটি টাকা খরচ করে অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ ও ভেঙে ফেলে আবার পুনরায় নির্মাণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খুলনার স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় পাশের একটি পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে শত শত বাস, ট্রাক, ইজিবাইক ও পথচারী।
এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার পাশাপাশি দুই পাড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। নির্ধারিত সময়ে মাত্র ১৯ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কখনও বন্ধ থাকছে আবার কখন কাজ চলছে ধীর গতিতে। ফলে সেতুটি আজ দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। চরম দুর্ভোগ আর হতাশায় পড়েছে, পথচারী ও নগরবাসী।
জানা যায়, গত সাত বছর আগে ২০১৬ সালে খুলনার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ময়ূর নদের ওপর ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল অপরিকল্পিত সেতুটি। নির্মাণে পানির স্তর থেকে সেতুটির উচ্চতার পরিমাপ ঠিক রাখা হয়নি। যে কারণে নদীতে নৌকা চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সাত কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে সেতুটি ভেঙে সেখানেই ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দে নতুন দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ৩০ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, গল্লামারী সেতুর কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সেতুর দুই পাড়ে ৭০-৮০ টন স্টিল ভিম ও হ্যাঙ্গার বার রাখা রয়েছে। সিকিউরিটি গার্ডের লোকজন সেগুলো পাহারা দিয়ে রাখছেন। ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা সেখানে এসে মাপামাপি করছেন ও ঘুরে যাচ্ছেন। পাশের সেতুর মাঝে বাঁশ দিয়ে ডিভাইডার তৈরি করে আসা যাওয়া করছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন তীব্র যানজট ডিঙিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেতুর দুই পাড়ে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মুন্না বলেন, আমরা কিছু দিন আগেও সড়ক বিভাগের সঙ্গে এই সেতুর বিষয়ে বৈঠক করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এই অযোগ্য ঠিকাদারের প্রতি সড়ক বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্তদের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। কারণ, তা না হলে তারা ঠিকাদারের প্রতি জামাইসুলভ আচরণ করছে। আমাদের দাবি নিয়ে আমরা অচিরেই কঠোর আন্দোলনে যাব। কারণ অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু নির্মাণে টালবাহানার কারণে খুলনাবাসী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।
সূত্র বলছে, গল্লামারী সেতু এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য সড়ক বিভাগের সঙ্গে ঠিকাদারের চুক্তি মূল্য ছিল ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। গতবছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সেতুর নির্মাণ ব্যয় ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ কোটি টাকা বৃদ্ধির চেষ্টা করছিল ঠিকাদার। ওই সময় তাদের বাড়তি টাকার বিষয়ে আশ্বাসও দিয়েছিলেন সাবেক এমপি শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলসহ আওয়ামী লীগ নেতারা। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর নেতারা পালিয়ে যান, সড়ক বিভাগেও ব্যাপক রদবদল করা হয়। সড়ক বিভাগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা সব ধরনের বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।
সড়ক বিভাগ থেকে জানা গেছে, নগরীর গল্লামারী মোড়ে ময়ূর নদের ওপর পাশাপাশি দুটি সেতু হবে। ৬৮ দশমিক ৭ মিটার লম্বা ও ২৩ মিটার প্রশস্ত সেতু দুটির মূল অবকাঠামো হবে স্টিলের। দেখতে অনেকটা রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে নির্মাণাধীন সেতু দুটি নদী থেকে ৪ মিটার উঁচু হবে। সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংকে (এনডিই) কার্যাদেশ দেয় সড়ক বিভাগ। চুক্তির আওতায় স্টিলের দুটি সেতু এবং সেতুতে যানবাহন ও পথচারীদের ওঠানামার জন্য দুই পাশে প্রায় ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর পুরাতন সেতুটি ভাঙার কাজ শুরু করে ঠিকাদার। ওই বছরই নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়। কিন্তু গতবছর আগস্টের পর থেকে দৃশ্যমান সব কাজ থমকে গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে পাইলিংয়ের জন্য সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে রিং। মরিচা ধরেছে রডে। সেতুটি দাঁড় করাতে দুটি অ্যাবটমেন্টের (কংক্রিটের স্তর) মধ্যে দেখা মেলে একটির। সংযোগ সড়ক নির্মাণের কোনো তৎপরতা নেই। বর্তমানে ২১ ফুট প্রশস্ত একটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন ১৫/২০ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। এতে সেতুর দুই পাশেই তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।
একদিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি অন্যদিকে প্রতিদিনই অনেক সময় নষ্ট হয়।এই নির্মাণ প্রকল্প দেখলে বোঝাই যায় না যে নির্মাণ কাজ হচ্ছে।
তবে ‘সেতুর কাজ বন্ধ নেই’ বলে দাবি করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ‘৬৪টি পাইলের মধ্যে ৩২টি আর চারটি পাইল ক্যাপের মধ্যে দুটির কাজ শেষ হয়েছে।
সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী তাজিমুল হক বলেন, ‘গত বছরের আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কাজে ধীরগতি এসেছে। প্রতিষ্ঠানকে আমরা বারবার তাগাদা দিচ্ছি।২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির