“ইসলামের পথে বাবার শহীদী মৃত্যুতে নেই কোনো দুঃখ—নূর আলমের পুত্র মিজানুর রহমানের আবেগঘন বার্তা”
মোছাদ্দেক সৈকত, বিশেষ প্রতিনিধি, রংপুর
রংপুর–১ আসনে গতকাল নির্বাচনী মোটরসাইকেল শোডাউনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জামায়াত কর্মী মোহাম্মদ নূর আলমকে শেষ বিদায় জানাতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তার পারিবারিক কবরস্থানে হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ও আশপাশের গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা নীরব শ্রদ্ধায় জানাজায় অংশ নেন, এবং শোকের আবহ পুরো এলাকায় বিরাজ করে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকালে গঙ্গাচড়ার সয়রাবাড়ী এলাকায়। জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজীর নির্বাচনী শোডাউনে অংশ নেওয়ার সময় নূর আলমের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের পিলারে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানাজায় নিহতের দ্বিতীয় পুত্র মিজানুর রহমান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“আমার বাবা ইসলামের জন্য কাজ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। আমাদের কোনো দুঃখ নেই। আপনারা সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন—আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।” তার বক্তব্যে উপস্থিত মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
এমপি প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী জানাজার আগে বলেন, “নূর আলম ভাই ছিলেন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, তবে তার জীবন আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আল্লাহ তার শাহাদাত কবুল করুন।” তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতা নীরব হয়ে যান, এবং শোককে হৃদয়ে ধারণ করেন।
জানাজা পরিচালনা করেন মাওলানা বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, নূর আলম ছিলেন দ্বীনের কাজে সবসময় নিষ্ঠাবান ও নিবেদিত প্রাণ একজন মানুষ। শোকাহত পরিবার এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে দাফনের আগে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর–রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর মহানগরী আমির মাওলানা এটিএম আজম খান, জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল কাজলসহ বিভিন্ন নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানাজার সময় উপস্থিত ছিলেন।
নূর আলম বশির হিমাগারের কর্মকর্তা ছিলেন এবং চার ছেলে ও এক মেয়েসহ বড় পরিবার রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামায়াতে ইসলামী সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জানাজা শেষে তার নির্মিত মসজিদের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। দাফনের পর এমপি প্রার্থী রায়হান সিরাজী শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
গ্রামজুড়ে গভীর রাত পর্যন্ত শোকের ছায়া বিরাজ করছিল। নূর আলম আর নেই, কিন্তু তার জীবনের আদর্শ ও দ্বীনের কাজে অবদান দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।
Leave a Reply