“মুন্সীগঞ্জে এক সেতুর অভাবে তিন জেলার মানুষের দূর্ভোগ,রাত হলেই ভাড়া গুনতে হয় ৩ গুন”
হারুন রশীদ মুন্সিগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে এক সেতুর অভাবে তিন জেলার মানুষের দূর্ভোগ,রাত হলেই ভাড়া গুনতে হয় ৩ গুন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি-মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় পদ্মার শাখা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে ৩ জেলার মানুষ। প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই নদী পার হতে ভরসা একমাত্র ট্রলার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে যাত্রী, মুন্সীগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তর দিঘিরপাড় বাজারের ব্যাবসায়ী ও যানবাহনের ভিড় লেগেই থাকে।
টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় নদী ঘাট হয়ে পারাপার হচ্ছে প্রতিনিয়ত ৩ টি জেলার মানুষ। দিঘিরপাড় মূল ভূখন্ডের সাথে পাশের তিন জেলার চরাঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে এই নদীপথ। মুন্সীগঞ্জের পাশাপাশি শরীয়তপুরে জেলার নওপাড়া, চরআত্রা, কাঁচিকাটা, কুড়েরচর, ঘড়িশাল এবং চাঁদপুরের হাইমচরের বাসিন্দারা এই পথ ব্যবহার করে মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকায় যাতায়াত করেন। তবে রাত ৮ টার পরে বন্ধ হয়ে যায় এ পথে ট্রলার চলাচল। রাতে জরুরি প্রয়োজনে এ পথ পাড়ি দিতে হলে ট্রলার ভাড়া গুনতে হয় তিন–চার গুণ। মোটরসাইকেল পারাপারে অনেক সময় দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা।
স্থানীয়রা বলেন, সেতুর অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও রোগী পরিবহন সব ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে।
শরীয়তপুরের কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইয়াসিন বেপারী বলেন, রাতে ট্রলার পাওয়াই কঠিন। পেলেও ভাড়া বেশি দিতে হয় তিন থেকে চার গুন। যদি একটি সেতু হত, তাহলে আমাদের জীবনে এত ঝামেলা থাকত না।
দিঘীরপাড় বাজারের দোকানদার শফিকুল ইসলাম বলেন, চর থেকে কৃষিপণ্য আনতে অনেক সময় ট্রলার না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে ব্যবসার ক্ষতি হয়।
চরআত্রা গ্রামের কলেজছাত্রী মমতা জানান, ট্রলার দেরি হলে নিয়মিতভাবে ক্লাসে পৌঁছাতে পারি না। পরীক্ষা থাকলেতো আরও সমস্যা হয়। সেতু হলে যাতায়াত সহজ হত।
চাঁদপুর জেলার হাইমচর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বাচ্চু মিয়া বলেন, অসুস্থ মা’কে নিয়ে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছি। কিন্তু ঘাটে ট্রলার না থাকায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। সেতু থাকলে রোগী নিয়ে এত সমস্যায় পড়তে হতো না।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দিঘীরপাড় এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল পরিবেশগত মূল্যায়ন, মরফোলজি ও হাইড্রো মরফোলজির কাজ শেষ করেছে। প্রকল্পটি এলজিইডির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থাণীয়দের দাবী, সেতুটি নির্মিত হলে মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল ও পাশের শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। নদীর বাধা দূর হলে যোগাযোগ সহজ হবে, অর্থনীতি সচল হবে এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবা পৌঁছে যাবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে।
Leave a Reply