“শিবচরে এলপিজি গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে সাধারন মানুষ”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর)প্রতিনিধি:-
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় প্রায় এক মাস ধরে তীব্র এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলছে। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই সংকট শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও খুচরা দোকানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।বিভিন্ন দোকানে সারি সারি সিলিন্ডার সাজানো থাকলেও তাতে গ্যাস নেই। চরম বিপাকে পরেছে সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শিবচর উপজেলার অধিকাংশ পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। জ্বালানি কাঠ ও কেরোসিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাসের এমন সংকটে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকেই বাধ্য হয়ে আবার কাঠ বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ থাকত, সেখানে এখন বড় বড় দোকানেও সিলিন্ডার নেই। কিছু কিছু দোকানে সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। যদিও সরকার নির্ধারিত গ্যাস সিলিন্ডার দাম ১৩০৬ টাকা করা হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতি সিলিন্ডারে ৪শ থেকে ৫শ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক গৃহিণী জিনিয়া আক্তার জানান, আমরা কয়েক বছর ধরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করি। এখন তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ। বাজারে খোঁজ করেও পাচ্ছি না। কোথাও পেলেও দাম অনেক বেশি। যেখানে সংসার চালানোই কষ্ট, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনব কীভাবে?
আরেক ভুক্তভোগী মাসুম হাওলাদার বলেন, “আগে হাটে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানদাররা বলে গ্যাস নেই। রান্না করতে না পেরে পরিবার নিয়ে বিপদে আছি। এখন বাধ্য হয়েই আবার লাকড়ির চুলায় রান্নার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
এলপিজি ব্যবসায়ীরাও সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলার নয়া বাজারের ব্যবসায়ী আকমল হোসেন বলেন, “আমরা কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাচ্ছি না। যার কারণে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও আমাদের কোনো সঠিক তথ্য নেই।”
তিনি আরও জানান, সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং জোরদার বা কোনো ধরনের লিখিত ঘোষণা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছে।
উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, গ্যাস সিলিন্ডার এখন জাতীয় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং চলমান। ভবিষ্যতে কেউ যদি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মজুতকৃত মালামাল সরকারিভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
Leave a Reply