“গঙ্গাচড়ায় মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা দাবির জেরে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২”
“মোছাদ্দেক সৈকত, বিশেষ প্রতিনিধি রংপুর”
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে চলাচলের পথ দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার আলমবিদিতর মৌজার কুশ্যারঘাট চওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বসতভিটার চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটির একটি অংশ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার চলাচল করে আসছিল। তবে সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হওয়ায় ওই অংশকে স্থায়ী রাস্তা হিসেবে দাবি করে প্রতিপক্ষ নির্মাণকাজে বাধা দেয়।
পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। মানবিক বিবেচনায় নির্দিষ্ট অংশ রেখে চলাচলের একটি ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নির্ধারিত অংশ বাদ দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আবারও বাধা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং নাজমিন বেগম আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান, বকস মিয়া ও শাহেব আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলাচল নিয়ে বিরোধ থাকলেও ঘটনাটি দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী বলেন, “আমার মালিকানাধীন জমিতে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। তারপরও একটি পক্ষ জোরপূর্বক রাস্তা দাবি করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুর রহমান বলেন, “ওই স্থানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। মানবিক কারণে উভয় পক্ষের সম্মতিতে চলাচলের একটি ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখা হবে।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply