“৩৫ বছর ধরে কাঠের ঘানী টেনে সংসার চালাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের মমতা খাতুন”
মো:নাঈম ভূইয়া জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ।
গরুর পরিবর্তে কাঁধে জোঁয়াল নিয়ে কাঠের ঘানী টেনে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সংসার চালাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মমতা খাতুন। অসুস্থ স্বামী, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ও ১০ সদস্যের সংসারের ভার কাঁধে নিয়েই খোলা আকাশের নিচে ঘানী টেনে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের বড়কুড়া গ্রামের মৃত বাহাদুর আলীর মেয়ে মমতা খাতুনের বিয়ে হয় ভদ্রঘাট ইউনিয়নের আকবর আলীর সঙ্গে। স্বামী অসুস্থ হয়ে ভারী কোনো কাজ করতে না পারায় সংসার টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে তিনি পৈত্রিক পেশা সরিষা ভাঙানোর কাজে নামেন।
মমতা খাতুন জানান, দিনে প্রায় ১০ কেজি সরিষা ভাঙাতে পারেন। এতে দেড় কেজি তেল ও সাড়ে সাত কেজি খৈল পাওয়া যায়। তবে তেল কেজি প্রতি ৪০০ টাকা ও খৈল ৬০ টাকা দরে বিক্রি করলেও সরিষা কেনার খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়। উপরন্তু ঘানী টানতে তিনি নিজে, স্বামী ও মেয়ে মিম প্রতিদিন শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, একটি নতুন কাঠের ঘানী তৈরি করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাগে। ঘানী রাখার জন্য একটি আধুনিক মানের ঘর এবং টানার জন্য অন্তত দুইটি বলদ গরুর প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
অসহায় এই পরিবারটি এখনো সরকারের কোনো সহায়তা পায়নি। নেই বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা ভিজিডি কার্ড। এমনকি অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার খরচ মেটানোও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
সরকার ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে মমতা খাতুন বলেন, “আমরা যদি একটি আধুনিক ঘানীর ঘর, কাঠের ঘানী তৈরির সরঞ্জাম ও বলদ গরু পেতাম, আর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় কিছু সহায়তা মিলত—তাহলে মানবেতর জীবন থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতাম।”
Leave a Reply