1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“৮১ কিলোমিটারের রেলপথে মুরাদনগর উপেক্ষিত! স্টেশনের দাবিতে রাজপথে জনতার প্রতিবাদ মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে গোপন তৎপরতা অপচেষ্টা—ক্ষুব্ধ তৃণমূল ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন।

“রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড :নিহত-১, আহত- ৫”

  • আপডেট : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৩ জন দেখেছেন

“রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড :নিহত-১, আহত- ৫”

শহীদুল ইসলাম শহীদ,রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া ফকিরপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সশস্ত্র হামলা চালানো হয় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর। বল্লম দিয়ে পেটে আঘাত করে হত্যা করা হয় মানিক মিয়ার চাচাতো ভাই নুরুল ইসলামকে। আহত হন পরিবারের আরও পাঁচজন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক আর উত্তেজনার পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে । গ্রামবাসীরা বলছেন,চুরির অভিযোগ আমলে নিয়ে থানা পুলিশ দ্রুত আইনি তদন্ত ও ব্যবস্থা নিলে এই রক্তপাতের ঘটনা ঘটত না এবং নূরুল ইসলামকে মরতে হতো না ।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১১ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে মানিক মিয়ার বসতবাড়ির প্রাচীর টপকে ৩–৪ জন অজ্ঞাত চোর ঘরে ঢুকে। তারা বারান্দা থেকে একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল, বিছানার নিচে থাকা ২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং শোকেসে থাকা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। রাত ৩টা ৩০ মিনিটে নারী সাক্ষী বিথী বেগম জানান, তিনি সন্দেহভাজন রাশেদুল ইসলামকে মানিক মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে একটি মই টেনে নিজের বাড়ির দিকে নিয়ে যেতে দেখেন। তার চিৎকারে আরও তিনজন লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সকালে মানিক মিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু অভিযোগের খবর জানাজানি হতেই সন্দেহভাজন পক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক মিয়াকে এলাকায় না পেয়ে তার চাচাতো ভাই নুরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বল্লম, ছোড়া ও লোহার রড নিয়ে হামলাকারীরা নুরুল ইসলামের পেটে এবং ছোড়া দিয়ে হাতে আঘাত করে। অতর্কিত হামলা আহত নূরুল ইসলামকে বাঁচাতে এলে পরিবারের অন্যান্য লোকজনও আহত হয় ।পরে গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং ১৫ নভেম্বর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের আহত পাঁচজন সদস্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী শরিফা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
আমার স্বামীকে কোনো কারণ ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।

প্রত্যক্ষদর্শী তফিজ উদ্দিন জানান,নূর ইসলাম রাস্তা দিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাশেদুল ও তার লোকজন বল্লম-ছোড়া নিয়ে হামলা চালায়। একের পর এক কোপাতে থাকে। পরিবারের লোকজন তাকে বাঁচাতে গেলে সবাইকে মারধর করে।

রাসেল মিয়া বলেন,রাশিদুল, সুজন, মানু রিপনসহ হাতে বল্লম, ছোড়া নিয়ে ৮/১০ জন এসে হামলা চালায়।

নিহতের চাচাতো ভাই ও চুরি মামলার বাদী মানিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি এটাই অপরাধ। তাদের পরিবারের নাওম পুলিশ সদস্য থাকায় আমরা পুলিশের কোন সহযোগিতা পাই নাই। তারা চুরির ঘটনা স্বীকার করার পরও গায়ের জোড়ে এই হত্যাকান্ড ঘটায়। পুলিশ যদি সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিত তাহলে আমার ভাইকে আজ মরতে হতো না।

হামলার ঘটনায় থানায় দাখিলকৃত মামলার বাদী মোকাররম হোসেন বলেন, এজাহার দেয়ার পরে পুলিশ এসে শুধু তদন্ত করে গেছে। এছাড়া পুলিশের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যায়নি।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরানের সাথে একাধিকবার মুটোফোনে করা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন,ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকার সুধীজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানায় চুরির অভিযোগের পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এমন হত্যাকাণ্ড হতো না। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এলাকার শান্তি নষ্ট করেছে বলে মনে করছেন তারা । এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জরুরি নিরাপত্তারও দাবি স্থানীয়রা । মানিক মিয়া, শরিফা ও তাদের পরিবার চরম ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির