“মুন্সীগঞ্জে হচ্ছে ঝুলন্ত সেতু বদলে যাবে মেঘনা পাড়ের অর্থনীতি”
মুন্সীগঞ্জ টংগীবাড়ী প্রতিনিধি- হারুন রশীদ
ইউরোপ আমেরিকার মতো মুন্সীগঞ্জ ও চাদঁপুর জেলার সংযোগস্থল মেঘনা নদীর উপরে ঝুলন্ত সেতু হচ্ছে। এত মন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও চাদঁপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মানষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা পূরণ হতে যাচ্ছে।
মেঘনা-ধনাগোদা নদীতে আধুনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে নদীর দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে।
এছাড়া স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে। এই ঝলন্ত সেতুটিু কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি দুই পাড়ের মানুষের নতুন আশা,
নিরাপত্তা ও সময়ের সেতবন্ধনের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। সেতটিু শুধু যানবাহনের জন্য নয়, পথচারী ও ছোট যানবাহনের জন্যও নিরাপদ হবে।
দীর্ঘদিন ধরে মানুষ নদী পারাপারের জন্য নৌকায় নির্ভর করতেন। সেতু নির্মাণের পর শিক্ষার্থী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সময় ও শ্রমের ব্যাপক সাশ্রয় পাবেন। বদলাবে গজারিয়া-মতলব দুই পাড়ের জীবন ও অর্থনীতি।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সুত্রে জানাগেছে, গজারিয়া-মতলব ঝলন্ত সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এই সেতর মূল অংশের দৈর্ঘ্য ১.৮৫ কিলোমিটার, আর সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৭.৫১ কিলোমিটার। গজারিয়ার
দিকে সেতটি চর ডিঙ্গি এলাকায় শুরু হবে, আর মতলবের দিকে এটি জামালপর এলাকায় গিয়ে শেষ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই সেতর দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।
গজারিয়ার অংশে খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপার করা ট্রলারের মাঝি ইয়াকুব আলী বলেন, অনেক বছর ধরে শুনি ব্রিজ হবে। কিন্তু কবে হবে, কে জানে! ব্রিজ হলে ওই পারের মানষের অনেক উপকার হতো। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন কর্মস্থল, স্কুল-কলেজ কিংবা বাজারে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখনো তাদের ভরসা ছোট ছোট ট্রলার আর নৌকা। নদী
পারাপারে সময় লাগে, ঝুকিও কম নয়। নদীর দুই পারের মানুষ এখনো আশায় দিন গুনছেন কবে সেই ব্রিজের কাজ শুরু হবে।
ট্রলারের যাত্রী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর উপর যদি একটি সেতু নির্মাণ করা হতো, আমাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত। প্রতিদিন পণ্য আনা-নেওয়ায় যে সময় ও খরচ বেড়ে যায়, তা কমে আসত। সেতু
হলে ব্যবসা আরও সহজ ও স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠত।
স্থাণীয়রা বলছেন, সেতু চালু হলে ঢাকার শিল্পাঞ্চলের পণ্য দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রামে পৌছাবে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে। এছাড়া দুই পাড়ের সাধারণ মানুষও কম সময় ও খরচে রাজধানী বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত করতে সক্ষম হবেন।
সড়ক ও সেত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ব্যয়বহুল এই ঝুলন্ত সেতুটি বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনযায়ী কাজ এগোচ্ছে এবং আশা করছি, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। তিনি আরও বলেন, সেতু নির্মাণের পর ঢাকা থেকে গজারিয়া-মতলব হয়ে চাদপুর, ফেনী ও চট্টগ্রাম যাতায়াতে সুবিধা এবং দুরত্ব কমে আসবে। এতে ঢাকাসহ আশপাশ অঞ্চলের শিল্পকারখানার পণ্য চট্টগ্রামের বন্দরে দ্রুত পৌছে বিদেশে রপ্তানি সহজ হবে। এছাড়া দক্ষিন পুর্বাঞ্চলের মানুষের রাজধানীতে যাতায়াতের সময় ও খরচ হ্রাস পাবে।
Leave a Reply