“কমলাসহ মিশ্র ফলের বাগানে সফলতা পেয়েছেন শিবচরের যুবক রাসেল মিয়া”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি :-
চায়না জাতের কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন শিবচরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাসেল মিয়া। তিনি শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শওকত হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে রয়েছে শতাধিক কমলা গাছ।গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা আদা পাকা কমলা।চারা লাগানোর দুই বছরে গাছে কমলা আসতে শুরু করে।
রাসেল মিয়ার বাগানে পেয়ারা, মাল্টা ও ড্রাগনসহ নানা ফলের মাঝে দেড় বিঘাজুড়ে রয়েছে কমলার চাষ। চার বছর আগে লাগানো এই কমলা গাছে গত দুই বছর ধরে মিলছে ফলন। ছোটজাতের কমলা গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ফল। পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা আর পরিচর্যার ফলে কমলা চাষে সাফল্যের গল্প লিখছেন শিবচরের যুবক মো. রাসেল হোসেন।
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে মৃধাকান্দি এলাকায় লীজ নেওয়া জমিতে রাসেল মিয়া শুরু করেন সমন্বিত ফলের বাগানের কার্যক্রম। বাগানে রয়েছে মাল্টা, পেয়ারা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন। দেড় বিঘা জমিতে মোট ৬০টি কমলা গাছ লাগানো হয়। কয়েকটি মারা গেলেও বাকিগুলোতে ভালো ফলন মিলছে। স্থানীয় বাজারে এই কমলা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় চাহিদা আরও বেশি।
জানা যায়, এলাকায় এভাবে কমলার বাগান সাধারণত দেখা যায় না। গত বছর থেকে রাসেলের বাগানে প্রচুর কমলা ধরে। স্বাদে মিষ্টি ও হালকা টক হওয়ায় ক্রেতাদের মন জয় করেছে দেশীয় এ কমলা। শিবচরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ বাগানে এসে কমলা কিনছেন।
কমলা কিনতে আসা মো. শামীম বলেন, ‘সরাসরি কমলার বাগান দেখার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। এখানে এসে গাছপাকা কমলা খেয়ে দেখলাম বেশ মিষ্টি। তাই দুই কেজি কিনলাম। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় চাহিদাও বেশি।
বাগান দেখতে আসা সাইদুর রহমান বলেন, আমি মাঝে মাঝে বাগান দেখতে আসি খুব ভালো লাগে, তিনি বলেন বাগানের উদ্যোক্তা রাসেল মিয়া আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী, সে চাকুরির আশায় বসে না থেকে নিজের পরিশ্রম দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইচ্ছে শক্তি আর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই, আমিও চিন্তা করছি একটা বাগান শুরু করবো।
চাষি মো. রাসেল মিয়া বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরে বাবার বাগান দেখভাল শুরু করি। চাকরি করলেও বাগান নিয়ে আমার আলাদা স্বপ্ন ছিল। কমলার বাগান করে এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। অনলাইনেও বিক্রি হয়, আবার অনেকে বাগানে এসে কিনে নিয়ে যান।
রাসেল আরও জানান, বাগান করতে শুরুর দিকে খরচ বেশি হলেও পরবর্তীতে খরচ কম। নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন আসে এবং লাভবান হওয়া যায়।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাসেলের কমলার বাগানে ভালো ফলন এসেছে। তিনি বলেন শিবচর উপজেলায় দিনে দিনে বিভিন্ন ফলের বাগানের পরিমান বাড়ছে এটা ভালো সংবাদ। উপজেলার কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। প্রতিটি ইউনিয়নে সহকারী উপজেলা কৃষি অফিসারগন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
Leave a Reply