1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“৮১ কিলোমিটারের রেলপথে মুরাদনগর উপেক্ষিত! স্টেশনের দাবিতে রাজপথে জনতার প্রতিবাদ মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে গোপন তৎপরতা অপচেষ্টা—ক্ষুব্ধ তৃণমূল ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন।

“AI: জেনারেশন Z–এর জন্য আশীর্বাদ নাকি হুমকি?”

  • আপডেট : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৪ জন দেখেছেন

“AI: জেনারেশন Z–এর জন্য আশীর্বাদ নাকি হুমকি?”

মো: শাকিল হোসাইন জাবি প্রতিনিধি

জেনারেশন Z—যাদের বয়স এখন আনুমানিক ১২ থেকে ২৬-এর মধ্যে—তাদের জীবনে প্রযুক্তি কোনো সংযোজন নয়; বরং স্বাভাবিক পরিবেশ। কিন্তু গত দুই বছরে জেনারেটিভ এআইয়ের বিস্ফোরক উত্থান এই প্রজন্মকে নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে—এআই কি তাদের ভবিষ্যতের গতি বাড়াবে, নাকি বিপদের মুখে ফেলবে?

স্মার্টফোনে জন্ম, সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় হওয়া এই প্রজন্ম এখন এআই-নির্ভর জগতে নিজেদের প্রথম সারির যাত্রী হিসেবে দেখছে। তবে এই যাত্রার প্রতিটি ধাপে রয়েছে জটিলতা, সম্ভাবনা এবং নৈতিকতার প্রশ্ন।

শুরুটা ‘কৌতূহল’ থেকে, কিন্তু থেমে নেই শঙ্কাও

ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাইম হাসান প্রতিদিনই পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহার করেন চ্যাটবট, কোডিং সহায়তা এবং এআই নোটমেকার অ্যাপ।

তিনি বলেন, “এআই আমার পড়াশোনা সহজ করে দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়—আমরা কি খুব দ্রুত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি?”

নাইমের মতো বাংলাদেশের আরও হাজারও তরুণ-তরুণীর মনে একই প্রশ্ন। এআই তাদের সুযোগ দিচ্ছে, একইসঙ্গে তাদের আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

ক্যারিয়ারে অসীম সুযোগ—এমন দাবি বিশেষজ্ঞদের

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেশন Z হচ্ছে বিশ্বে প্রথম প্রজন্ম যাদের কর্মজীবনে শুরু থেকেই এআই একটি স্থায়ী সহযাত্রী।

ডেটা অ্যানালিটিক্স

এআই কনটেন্ট ক্রিয়েশন

ডিজিটাল মার্কেটিং

অটোমেশন ম্যানেজমেন্ট

সাইবার সিকিউরিটি

এ সব ক্ষেত্রেই এআই–সচেতন তরুণদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

আইসিটি খাতের বিশেষজ্ঞ আনিসুল হক বলেন,
“যদি Gen Z ঠিকভাবে এআই ব্যবহার করতে শেখে, ভবিষ্যত শ্রমবাজারে তারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। এআই তাদের সুযোগকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।”

কিন্তু ভয়ও আছে—চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাস্তব

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বে অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক চাকরি অটোমেশন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রাফিক ডিজাইন, কাস্টমার সাপোর্ট, ট্রান্সলেশন, বেসিক কোডিং—এমন অনেক কাজেই ইতিমধ্যেই এআই মানুষের জায়গা নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম উদ্বেগ—
এআই কি চাকরির সংখ্যা কমিয়ে দেবে?

সামাজিক গবেষক মেহরিন ইসলাম মনে করেন,
“প্রযুক্তি সবসময় চাকরি কমায় না, বরং চাকরির ধরন বদলায়। জেনারেশন Z-এর জন্য আসল চ্যালেঞ্জ হবে—নতুন ধরনের দক্ষতা শেখা।”

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ—নীরব কিন্তু দ্রুত বাড়ছে

এআই–নির্ভর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম Gen Z-কে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক কনটেন্ট সাজেশন তরুণদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত ডোপামিন নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।

অনেক তরুণের ভেতরে তৈরি হচ্ছে তুলনা, হীনমন্যতা এবং অবাস্তব সাফল্যের চাপ।

মনোবিজ্ঞানী সাকিলা রহমান বলেন,
“Gen Z-এর কাছে প্রযুক্তি সুবিধা, কিন্তু একইসঙ্গে অদৃশ্য চাপও। এআই-বুস্টেড কনটেন্ট তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।”

শিক্ষায় এআই—দু’ধারি তরবারি

এআই যেভাবে শেখার ধরণ বদলে দিচ্ছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এআই কি শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ করছে, নাকি অলসতা বাড়াচ্ছে?

অনেক শিক্ষক অভিযোগ তুলেছেন—
অতিরিক্ত এআই নির্ভরতা ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক চিন্তাশক্তিকে কমিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলছে—
এআই তাদের শেখায়, উদাহরণ দেয়, অনুশীলনের সুযোগ দেয়।

এই টানাপোড়েনে শিক্ষা জগতে তৈরি হয়েছে বিভক্ত মতামত।

নৈতিকতার প্রশ্ন—Gen Z কি প্রস্তুত?

ডীপফেক, ভুয়া খবর, এআই–জালিয়াতি—সব মিলিয়ে এআই যুগে নৈতিক মান বজায় রাখা হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষ করে Gen Z-এর অনেকেই অনলাইন গোপনীয়তা, ডেটা প্রাইভেসি, এবং কনটেন্টের সত্যতা যাচাই করা সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট সচেতন নয়।

তাহলে AI: আশীর্বাদ নাকি হুমকি?

এক লাইনে উত্তর নেই।
এআই Gen Z-এর জন্য যেমন নতুন দরজা খুলছে, তেমনি অজানা ঝুঁকিও তৈরি করছে।

সঠিক ব্যবহার → আশীর্বাদ
অবিমৃষ্যকারিতা → হুমকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইকে থামিয়ে রাখা যাবে না। বরং শেখা, মানিয়ে নেওয়া এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে ব্যবহার তৈরিই হবে এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির