“কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তার নির্মাণ কাজ চালুর দাবিতে শিবচরে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও মানববন্ধন”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর(মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে কবরস্থানের চলমান রাস্তা নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর মধ্যে থেকে একজন ব্যক্তির বাধাঁর মুখে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সানকিরচর এলাকায় এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সানকিরচর এলাকায় প্রায় আড়াইশো পরিবার বসবাস করেন।এলাকাটি নিচু হওয়ায় এলাকাবাসীর সেখানে স্থানীয় মৃত ব্যক্তিদের দাফন করার জন্য সম্মিলিতভাবে এলাকায় একটি কবরস্থান নির্মান করেন। কবরস্থানটিতে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন।প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তাটি নির্মাণের জন্য এলাকার ২৪ জন জমির মালিকের জমি পড়লে তাদের মধ্যে ২৩ জন সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি দান করেছেন। কিন্তু স্থানীয় জসিম মিয়া নামক এক ব্যক্তি তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং বাধা প্রদান করলে নির্মাণকাজটি থমকে যায়।পরে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে ওই ব্যক্তির জমি বাদ দিয়ে অন্যদের জমির উপর দিয়ে পুনরায় রাস্তা নির্মানের কাজ চালু হয়।এদিকে গতকাল জমি ও রাস্তা নির্মান নিয়ে একটি টেলিভিশনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে ভূয়া তথ্য দিয়ে একটি নিউজ প্রচার হয়।এর ফলে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকাটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন কবরস্থানে লাশ দাফন করতে বা লাশ বহন করতে নৌকার প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও অমানবিক। রাস্তাটি নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কবরস্থানে যাতায়াত সহজ হবে।আমরা আমাদের কবরস্থানে সহযেই যেতে পারবো।
বাংলাদেশ দেশীয় চিকিৎসক সমিতির মহাসচিব মো: হাবিবুর রহমান বলেন,আমাদের এই সানকির চর এলাকার দুইশর অধিক পরিবার বসবাস করে।এই গ্রামে কোন গোরস্থান ছিলো না।যার প্রেক্ষিতে গ্রামবাসীর সম্মিলিতভাবে এখানে ৮০ শতাংশ জমির উপরে একটি গোরস্থান করেছে।এখানে কেউ টাকা দিছে,কেউ জমি দিছে।বর্ষা মৌসুমে লাশ নিয়ে কবর স্থানে যাওয়া বা কবর জিয়ারত করতে যেতে খুব কষ্ট হয়।তাই আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে বাশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করলে সে রাস্তাটি করার উদ্যোগ নেন।পরে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তারা সম্মিলিতভাবে এখানে একটি রাস্তার করার উদ্যোগ নেয়।সবাই আমরা খুব খুশি হই।কিন্তু এখানে একজন লোক রাস্তার কাজে বাঁধা দেয় ও ইউএনওর কাছে দরখাস্ত করে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়।পরে সরেজমিনে ইউএনও মহোদয় এই এলাকা পরিদর্শন করে তিনি দেখলেন এটা একটি মানবিক বিষয় তাই সে রাস্তার কাজ করার অনুমতি দেন।আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি দ্রুত যেন তারা রাস্তটি করে দেন।
বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য বাদশা হাওলাদার বলেন, আমাদের এই চকটিতে (পাথার) প্রায় দুইশত একর জমি আছে।এই চকের কোন ফসল রাস্তার অভাবে আমরা বাড়ি নিতে পারি না।একটা পথ নেই।মানুষ ভ্যান নিয়ে তার ক্ষেতের ফসল আনবে।একটা কৃষানও আসেনা,এই ফসল মাথায় করে নিবে।এলাকায় আড়াইশো ঘর আছে।একটা কৃষকও আসেনা এখানে কাজ করতে।তাই আমরা সকলে এখানে একটা রাস্তার দাবী করি।যাতে আমাদের এলাকার গোরস্তানে সহজেই যেতে পারে ও চকের ফসল কাটতে বা নিতে সবাই রাস্তা দিয়ে যেতে পারে।তাই প্রশাসনের কাছে আবেদন যাতে করে আমাদের এই রাস্তার কাজটি দ্রুত হয়ে যায়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম ইবনে মিজান জানান, বাঁশকান্দি ইউনিয়নের একজন ভাই অভিযোগ করে,পরে আমি পিআইওকে সেখানে পাঠাই ও বিষয়টি আমাকে জানাতে বলি।পরে পিআইও সরেজমিনে তদন্ত করে আমাকে জানান।তারপরেও ওই ভাই আমাকে ফোন দিলে আমি কাজ বন্ধ রাখতে বলি ও সেখানে যাই।পরে সেখানে গেলে দেখলাম এটা একটি করব স্থানের জায়গা ও এলাকার ২৪ জন লোকের মধ্যে ২৩ জন জমি দিচ্ছেন আর ১ জন দিচ্ছে না।যেহেতু সে তার নিজের জমি দিবে না তাই জোর করে তো কারো জমি নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।তখন আমি ওখানে নির্দেশনা দিয়ে এসেছি যেহেতু ওই ভাই জমি দিবে না তাহলে রাস্তাটি যেন ওনার জমি উপর দিয়ে না যায়, অন্য দিক দিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন যারা ওখানে উপস্থিত ছিলেন সবাই বিষয়টি মেনে নিয়েছে।এটাই।
Leave a Reply