1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“৮১ কিলোমিটারের রেলপথে মুরাদনগর উপেক্ষিত! স্টেশনের দাবিতে রাজপথে জনতার প্রতিবাদ মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে গোপন তৎপরতা অপচেষ্টা—ক্ষুব্ধ তৃণমূল ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন।

“ঘোড়াঘাটে মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসন আমলের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দূর্গ”

  • আপডেট : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯৭ জন দেখেছেন

“ঘোড়াঘাটে মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসন আমলের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দূর্গ”

সাহারুল ইসলাম ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসন আমলের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়াঘাট দূর্গের একটি মসজিদের অংশ বিশেষ।

মোঘল সাম্রাজ্য রাজধানী শহরের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা। বর্তমানে ঘোড়াঘাট একটি ছোট্ট উপজেলা হলেও, প্রাচীন বাঙলার মোঘল সাম্রাজ্য এবং পরবর্তীতে ইংরেজ শাসন আমলের নানা ইতিহাস রচিত হয়েছে এই ঘোড়াঘাটে। তবে কালের বিবর্তনে এবং রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে হারিয়ে গেছে প্রবাদ বাক্যের ৫০ বাজার ও ৫৩ গলির ঘোড়াঘাট শহর। সেই ইতিহাসের স্বাক্ষ্য বহন করতে জরাজীর্ণ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে ঘোড়াঘাট দুর্গ।

প্রত্নত্তাত্বিক এই নিদর্শন আজ অস্তিত্ব সংকটে। ইতিহাস সমৃদ্ধশহরের শত শত একর জমি দখল হয়ে গেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৫ শতকে স্বাধীন সুলতানি আমলে ঘোড়াঘাট একটি সীমান্ত ফাঁড়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও মোঘল সরকার ব্যবস্থায় এটি বাঙলার অন্যতম প্রশাসনিক বিভাগ ছিল। যা নবাবী আমলেও নিজের মর্যাদা টিকিয়ে রেখেছিল। মোঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে ১৫৮২ সালে প্রশাসনিক সুবিধার্থে সমগ্র সুবা-ই-বাঙলাকে ১৯টি সরকারে বিভক্ত করা হয়। যার মধ্যে অন্যতম একটি ছিল ‘সরকার ঘোড়াঘাট’।

সেই আমলে ঘোড়াঘাটের করতোয়া নদীরতীরে গড়ে উঠে ‘ঘোড়াঘাট দুর্গ’। বিভিন্ন সময় এই দুর্গ বিভিন্ন রাজার অধিনে ছিল। রাজারা প্রয়োজন মত যুদ্ধ কাজে ব্যবহারিত বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখতো এই দুর্গে। ইতিহাসের বিভিন্ন বই থেকে জানা যায় সম্রাট আকবরের সময়ে এই দুর্গে ৯০০ অশ্বরোহী বাহিনী ছিল। তাদের সাথে ছিল অর্ধশতাধিকের অধিক হাতি এবং ৩২ হাজার ৬০০ জনের মত পদাতিক বাহিনী। মুসলিম শাসিত ঘোড়াঘাট সরকারের শেষ ফৌজদার ছিলেন মীর করম আলী খান। তার শাসন আমলে ১৭৬৫ সালে ইংরেজ সেনাপতি মি. কোট্রিলের নেতৃত্বে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে ঘোড়াঘাট সরকারের পরাজয় ঘটে।

তখন ইংরেজরা সমগ্র উত্তরবঙ্গ নিয়ে ঘোড়াঘাট জেলা’ গঠন করে। মি. কোট্রিল ঘোড়াঘাট জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক ছিলেন। ঘুরে দেখা যায়, দিনাজপুর-গোন্দিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারে সাহেবগঞ্জ মৌজায় দাঁড়িয়ে আছে ঘোড়াঘাট দুর্গের একটি মসজিদের অংশ বিশেষ। দুর্গের দক্ষিণ-পূর্বকোণে এই মসজিদের অবস্থান। যা বর্তমানে লতাপাতা ও জঙ্গলে ঢেকে আছে। চারকোণা মসজিদটির তিন কোণায় তিনটি গম্বুজ ছিল। যা বর্তমানে ভগ্নপ্রায়। দুর্গের চারপাশে উচু লালমাটির টিবি বা পরিখা ছিল। যা বর্তমানে কেটে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছে শত শত পরিবার। স্থানীয়রা ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে জরাজীর্ণ মসজিদটি চারপাশে দেয়াল তুলে সীমানা প্রাচীর তৈরি করেছে। মসজিদের পূর্বপাশে ঈদগাঁ মাঠ তৈরি করেছেন গ্রামবাসী। ইংরেজ শাসন আমলেও কোম্পানী সৈনদের মাঝে অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে ঘোড়াঘাটে।

১৭৮৭ সালে ঘোড়াঘাট জেলার বিলুপ্তি ঘটে। ঘোড়াঘাট থেকে জেলার প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম চলে যায় বর্তমান জেলা দিনাজপুরে। পরবর্তীতে স্থানীয়রাও ঘোড়াঘাট ত্যাগ করে চলে যায় দিনাজপুরে। এরপর থেকে দিনে দিনে হারিয়ে গেছে ঘোড়াঘাট দুর্গের স্থাপনা এবং মুছে যেতে বসেছে ইতিহাস। সম্প্রতি এই প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাকিল আহমেদ এবং পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ ইফতেখার আহমেদ সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। পরিদর্শন শেষে উক্ত স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষনে সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ডিসি।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘোড়াঘাট দুর্গএবং এরসাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রাচীন স্থাপনা সম্পর্কে রিপোর্ট দাখিল করতে ইউএনও’কে নির্দেশনা দিয়েছি। ইতিহাসসমৃদ্ধ এসব স্থাপনা রক্ষায় আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
২৭-১১-২৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির