“কথা রাখেনি প্রেমিক, প্রতিশ্রুতি ভেঙে দিলেন হবু শ্বশুরও”
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি -জি,এম বাবু
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার জারুলিয়া গ্রামে প্রেমিকের বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে দ্বিতীয় দফায় অনশনে বসেছেন এক তরুণী। উনু মিয়া হাজী বাড়ির ইয়াসির আরাফাত ইমন (পিতা: আব্দুল মালেক)–এর বাড়ির সামনে শনিবার সকালে তিনি এ অনশন শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষজন জড়ো হলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
প্রেমিকা জানান, ইয়াসির আরাফাত ইমনের সঙ্গে তাঁর ছয় বছরেরও অধিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিভিন্ন সময়ে ইমন তাকে আশ্বস্ত করতে কোরআন শরীফ ও মায়ের দুধের কসম করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ইমন জানান, তাঁর পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না।
প্রেমিকার অভিযোগ, পারিবারিক অস্বীকৃতির পরও দুজনের সম্মতিতে তিনি ইমনের বাড়িতে অবস্থান নেন। প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেও পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ইমনের বাবা মেয়েটিকে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়—তিন মাস পর তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন করা হবে। এই আশ্বাসে প্রেমিকা প্রথম দফায় অনশন প্রত্যাহার করে নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
তবে তিন মাস অতিবাহিত হলেও বিয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রেমিকা। তিনি জানান, বিষয়টি টালবাহানা করে বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ে থেকে সরে যায় ইমনের পরিবার।
ইমনের বাবা বলেন, তিনি তাঁর ছেলে ইয়াসির আরাফাত ইমনকে “খুঁজে পাচ্ছেন না”। কিন্তু প্রেমিকার দাবি—ইমনের মামা ও বড় বোন বিয়ের বিষয়টি নিয়ে নানা নাটকীয়তা তৈরি করে আসছেন।
প্রেমিকা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“আমি সর্বস্ব দিয়ে ইমনকে ভালোবেসেছি। এই সম্পর্কের কারণে পরিবারে কলঙ্কিত হয়েছি, সমাজে অপমান সহ্য করেছি। এখন বিয়ে না করলে আমার বাঁচার কোনো মুখ নেই। দাবি না মানলে বিষ খেয়ে মরতে হবে—এটা বলতেই বাধ্য হচ্ছি।”
ঘটনার পর এলাকা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যার সমাধানে দুই পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply