“আলফাডাঙ্গায় শিশু জায়ান হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন”
আরমান উজ্জামান রাজু আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুর।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সদর পৌর বাজার চৌরাস্তায় হৃদয়বিদারক শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দফায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকালে বুড়াইচ ইউনিয়নে পাকুড়িয়া গ্রামে গ্রীস প্রবাসী পলাশ মোল্লার ছেলে জায়ান হত্যার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন পালন করেন।
পাকুড়িয়া গ্রামবাসী ও উপজেলার সর্বসাধারণ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে পুরো চৌরাস্তায় জুড়ে নেমে আসে উত্তাল গণআন্দোলনের চিত্র।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা শিশু জায়ান হত্যার প্রকৃত আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্যে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন—“জায়ানের হত্যাকারীরা যেই হোক, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে।”
জায়ান হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহ জালাল আলম জানান,
“এ পর্যন্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। খুব শিগগিরই অন্যান্য অপরাধীদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বুড়াইচ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে নিখোঁজের চার ঘণ্টা পর পার্শ্ববর্তী একটি বাগানের গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গ্রীস প্রবাসী পলাশ মোল্যার শিশু ছেলে জায়ান মোল্যার লাশ। নিষ্ঠুর ও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।
ঘটনার দিনই নিহতের মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।তদন্তে ঝুলন্ত রশিটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে পুলিশ চিহ্নিত করে। অনুসন্ধানে পাশের টাবনী বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে ওই রশি কেনার তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা মফিজ খানের দোকান থেকে রশি কিনেছিলেন, যা উদ্ধার হওয়া রশির সঙ্গে মিল রয়েছে। এই সূত্র ধরে ইউনুচ মোল্যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
Leave a Reply