1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“৮১ কিলোমিটারের রেলপথে মুরাদনগর উপেক্ষিত! স্টেশনের দাবিতে রাজপথে জনতার প্রতিবাদ মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে গোপন তৎপরতা অপচেষ্টা—ক্ষুব্ধ তৃণমূল ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন।

“জন্মশতবর্ষে বাংলার তিন আলোকবর্তিকা”

  • আপডেট : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২১ জন দেখেছেন

“জন্মশতবর্ষে বাংলার তিন আলোকবর্তিকা”

শাহিন,ক্যাম্পাসপ্রতিনিধি,জগন্নাথবিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে যে কয়েকজন ব্যক্তিত্ব অমোচনীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তাঁদের মধ্যে মুনীর চৌধুরী, নূরজাহান বেগম এবং গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার অন্যতম। নাট্যকার মুনীর চৌধুরী যেমন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভাষা আন্দোলনকে নাট্যরূপ দিয়েছেন, তেমনি নূরজাহান বেগম নারী সাংবাদিকতার পথ প্রশস্ত করেছেন এবং গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বাংলা গানের ভুবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এই প্রতিবেদনে এই তিন কিংবদন্তির জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো-

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১): প্রতিবাদী নাট্যকার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।মুনীর চৌধুরী ছিলেন ষাটের দশকের পূর্ব বাংলার একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। একাধারে নাট্যকার, সমালোচক, মনীষী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তিনি ঔপনিবেশিক শোষণ ও পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর রচনায় উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনুজ্জ্বল জীবন ও সামাজিক বাস্তবতার চিত্র।

উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ, পূর্ণাঙ্গ নাটক-

রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬১) – ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই নাটক তাঁকে বিশেষ খ্যাতি এনে দেয়

চিঠি (১৯৬৬)। একাঙ্কিকা সংকলন:

কবর (১৯৫২) – ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই নাটকে পাকিস্তানিদের দ্বারা ভাষা-শহীদদের লাশ গুম করার ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে দণ্ডকারণ্য,পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য,

এছাড়া তাঁর অসংখ্য একাঙ্ক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: রাজার জন্মদিন (১৯৪৬), একতলা দোতলা (১৯৬৫), দণ্ড (১৯৬৬), মর্মান্তিক (১৯৬৭), বংশধর (১৯৬৭) প্রভৃতি।১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একজন। আজ ৯ ডিসেম্বর, আর মাত্র পাঁচ দিন পর সেই কালো দিনের ৫৪তম বার্ষিকী পালিত হবে।

নূরজাহান বেগম (১৯২৫-২০১৬): নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। নূরজাহান বেগম ছিলেন বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রপথিক এবং একজন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক। তাঁর ডাক নাম ছিল নূরী। তিনি ছয় দশক ধরে ভারত উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা “বেগম”-এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নাসির উদ্দীন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল, যিনি প্রথম চার মাস এই দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নূরজাহান বেগম দীর্ঘ সময় এই পত্রিকার হাল ধরেন।

বেগম পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল:

নারী জাগরণে ভূমিকা রাখা

নতুন লেখক সৃষ্টি করা

সাহিত্য ও সৃজনশীলতায় নারীদের উৎসাহী করা

নূরজাহান বেগম ২০১৬ সালের ২৩ মে পরলোকগমন করেন, রেখে যান নারী অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার(১৯২৫-১৯৮৬): কালজয়ী গীতিকার ও সুরকার। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা ছায়াছবি ও আধুনিক গানের জগতে প্রেমাবেগ-ঊষ্ণতা সঞ্চার করেছিলেন। তাঁর গীত রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল শব্দচয়নে অনন্য দক্ষতা। মান্না দে’র কণ্ঠে তাঁর লেখা “কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই” গানটি ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান পায়।তাঁর অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে:

মাগো ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে

আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা (১৯৫৬)

আজ দুজনার দুটি পথ (১৯৫৭)

প্রেম একবারই এসেছিল (১৯৫৮)

নীড় ছোটো ক্ষতি নেই (১৯৫৮)

কাজল কাজল চোখে (১৯৬১)

এই পথ যদি শেষ না হয় (১৯৬১)

যদি কাগজে লেখো নাম (১৯৭৪)। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের জন্যও তিনি গান রচনা করেছিলেন, যা জনমানসে দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়েছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই কালজয়ী সংগীত স্রষ্টার স্মৃতি সংরক্ষণে পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে বাংলাদেশ সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর পৈত্রিক ভিটায় বর্তমানে গড়ে উঠেছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সংস্কৃতিসেবীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জন্মস্থানে একটি স্মৃতিসৌধ বা সংগীত একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন।মুনীর চৌধুরী, নূরজাহান বেগম এবং গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার – এই তিনজন ব্যক্তিত্ব বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবেন। একজন প্রতিবাদী নাট্যকার হিসেবে, একজন নারী অধিকারের প্রবক্তা হিসেবে এবং একজন কালজয়ী গীতিকার হিসেবে তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁদের কর্ম ও আদর্শ আজও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তবে তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নে রাষ্ট্রের যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষত গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মতো কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মভূমিতে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ না থাকাটা জাতীয় লজ্জার বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মো: শাহিন ইসলাম

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,  ঢাকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির