“রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই- সিলেট জনসভায় সুন্নীজোট নেতৃবৃন্দ”
রিপন কান্তি ধর,জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় সংলাপে এবং জুলাই সনদে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ দেয়া, দূর্নীতিবাজ কালোর টাকার মালিক ও দণ্ডিতদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা, মাজার মসজিদ খানকায় হামলায় জড়িতদের বিচার, জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সব হত্যার বিচার করা এবং মবসন্ত্রাস থামানো সহ ১৩ দফা দাবিতে সিলেটে বৃহত্তর সুন্নী জোটের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহত্তর সুন্নী জোট সিলেট জেলার উদ্যোগে জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল কাদেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আলহাসানী আল মাইজভান্ডারী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর মহাসচিব শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর অতিরিক্ত মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দের মধ্যে জননেতা স ম হামেদ হোসাইন, আল্লামা রফিকুল ইসলাম জাফরী, মুফতি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মুরাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ শাহ আলম, মাওলানা শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ হাসান মাহমুদী, মুফতি মোঃ আব্দুল মুমিন আল আবেদী, মাওলানা শেখ শফিকুল হাসান রেজভী, মাওলানা মুহাম্মদ ওলীউর রহমান, জাকির হোসেন মুন্সি, শেখ মাসুক আহমেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর নেতৃবৃন্দের মধ্যে পীরে তরিকত আল্লামা শাহ জালাল আহমদ আখঞ্জী, অধ্যক্ষ আল্লামা আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, অধ্যাপক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সোলাইমান খান রব্বানী, অধ্যাপক মাওলানা নুরুল্লাহ রায়হান খান, এইচ এম মিসবাহ উদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা আহমদ আলী হেলালি, অধ্যক্ষ গোলাম সরওয়ার, কাজি মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, ডাঃ এস এম সরওয়ার, মাওলানা আব্দুল মুহিত হাসানী, মাওলানা শেখ মোঃ খাইরুল আমিন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন জালালি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর নেতৃবৃন্দের মধ্যে পীরজাদা কাজী আশিকুর রহমান হাশেমী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূইয়া চাঁদপুরী, মোঃ আসলাম হোসাইন, মোঃ ইব্রাহিম মিয়া, মাওলানা হাফেজ কেরামত আলী, মোঃ আব্দুর রহিম, শাহ আবুল ফজল মোঃ মাসউদ, মহালদার মোঃ সুহেল আহমেদ ভান্ডারী, ঢালি কামরুজ্জামান হারুন, মুহাম্মদ নুরুল হক চিশতী, মোঃ আলী হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বৃহত্তর সুন্নী জোট নেতৃবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন জনগণের নিকট অধিকতর প্রত্যাশিত থাকলেও তা নিয়ে নানামাত্রিক তালবাহানা ক্রমাগত জনমনে আস্থার সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি মহল নির্বাচন নিয়ে রকমারি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অথচ এ মূহুর্তে রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।
নির্বাচনের পূর্বে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা না হলে অতীত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তিই ঘটবে বলে উল্লেখ করে জোটের শীর্ষ নেতা ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেন, দেশে এখনো মব সন্ত্রাস চলমান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলো এখনো প্রোপারলি ফাংশান করছে না। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিন তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের মেয়াদ দীর্ঘ ১৬ মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পায় নি। এ যাবত প্রায় ৪০০ শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানি-রপ্তানি শ্লথ হয়ে পড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ অপেক্ষাকৃত হৃাস পেয়েছে। অভিশপ্ত বেকারত্ব বর্ধিষ্ণু। দূর্নীতির পারদও উর্ধ্বমুখী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কতিপয় রাজনৈতিক দলের এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশ ও জাতিকে ক্রমাগত নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আলহাসানী আল মাইজভাণ্ডারী তার বক্তব্যে বলেন, মানুষ আজ ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। গত ১৫ মাসে সারা দেশে মব সৃষ্টি করে নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হেনস্তা, মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ বহু ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়ে কবরের লাশও নিরাপদ নয়। কবর থেকে লাশ তুলে উল্লাস করে পুড়িয়ে ফেলার ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত অতীতে কখনো দেখা যায়নি। দেশে যেন নব্য জাহিলিয়াত ফিরে এসেছে।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর মহাসচিব শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, সরকার রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের বিষয়সমূহ পাশ কাটিয়ে সংস্কারের নামে নির্দিষ্ট একটি মহলকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে প্রতিষ্ঠা করছে। সরকারের মেয়াদ দীর্ঘ ১৬ মাস অতিক্রান্ত হলেও অদ্যাবধি দেশের রাজনৈতিক দলসমূহকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনতে পারে নি।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, বিচারকেন্দ্রিক অনিয়ম-দূর্নীতি, যেমন মামলা বাণিজ্য, গ্রেফতার বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য এসবের ক্ষেত্রে পূর্বাবস্থা বহাল রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দূর্নীতি প্রতিরোধেও সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ছাঁটাইকৃত সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তার চাকুরীতে পূনর্বহালের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর অতিরিক্ত মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার টানাপোড়েনে প্রভাবিত ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনও
Leave a Reply