1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“৮১ কিলোমিটারের রেলপথে মুরাদনগর উপেক্ষিত! স্টেশনের দাবিতে রাজপথে জনতার প্রতিবাদ মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে গোপন তৎপরতা অপচেষ্টা—ক্ষুব্ধ তৃণমূল ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার” বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক” কালীপূজা ঘিরে নেত্রকোনায় পুলিশের সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রস্তুতি” “১০ দিন পর অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরলেন কলেজশিক্ষার্থী রিদওয়ান লটারি নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী” ‎ লালপুর বাজারের রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর আল্টিমেটাম, না সরলে চলবে অভিযান” আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন।

“‎অষ্টগ্রামে উদ্যোক্তা শ্যামলের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা”

  • আপডেট : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ জন দেখেছেন

“‎অষ্টগ্রামে উদ্যোক্তা শ্যামলের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা”
‎
এ আর সুমন ‎অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি:

‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে কেন্দ্র করে ভাতাভোগীদের ওপর চলছে ভয়াবহ অনিয়ম, অবৈধ অর্থ আদায় ও প্রতারণার অভিযোগ। সেন্টারের উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ভাতা আবেদন থেকে শুরু করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলমা, চন্ডিপুর, সাপান্ত ও হালালপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ভাতাভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি।
‎
‎ভুক্তভোগীরা জানান, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,গর্ভবতী ভাতার আবেদন করতে গেলে শ্যামল চন্দ্র দাস ১,০০০ টাকা আবেদন ফি দাবি করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি ভাতার টাকা উত্তোলনের সুবিধার কথা বলে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় শ্যামলের নিজ দোকান থেকে ৫০০ টাকায় সিম কিনে। অন্য দোকানের সিম গ্রহণ না করার হুমকিও দেওয়া হয়।
‎
‎আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ভাতাভোগীর সিম কার্ড নিজের কাছে রেখে দেন শ্যামল এবং পাসওয়ার্ডও নিজেই সেট করেন। ফলে ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হলে প্রথমেই তিনি টাকা উত্তোলন করেন। পরে ইন্দ্রজিৎ মেম্বারের মাধ্যমে সিম ভাতাভোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
‎
‎ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায়ও নতুন কৌশলে হয়রানি করা হয়। ভাতাভোগীরা জানান, অ্যাকাউন্টে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার কম ব্যালেন্স থাকলে উত্তোলন করা যাবে না বলা হয়। তবে ‘কিছু দিলে’ সেই নিয়ম তখনই ভেঙে যায়। এতে সাধারণ মানুষ আরও চাপে পড়ে।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল দাস, বিকাশ দাস, রামেস্বর দাস, নেতা রানী দাস সহ একাধিক  ভাতাভোগী বলেন, “আমরা গরীব মানুষ। ভাতা পাইলে সংসার চলে। কিন্তু আবেদন, সিম কিনা, টাকা তোলা, সব জায়গাতেই টাকা লাগে। না দিলে কোনো কাজ হয় না।
‎
‎এদিকে অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে নতুন চিত্র সামনে আসে। শ্যামল চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে রাজনৈতিক কার্যালয় দাবি করেন। একইসঙ্গে অষ্টগ্রাম উপজেলার সদরের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ফোন করে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। তার এই আচরণে প্রশ্ন আরও গভীর হয়েছে। ডিজিটাল সেন্টারের আড়ালে কি কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে এই ভাতা সিন্ডিকেট?
‎
‎মোহনতলা বাজার কমিটির সভাপতি কৃষ্ণনন্দ দাস শ্যামল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগকে সত্য উল্লেখ করে তাকে দ্রুত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, ডিজিটাল সেন্টারে একজন সৎ ও দক্ষ উদ্যোক্তা নিয়োগ দিতে হবে এবং সকল অনিয়ম নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
‎
‎কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ উদ্দিন জানান, এসব ঘটনা অহরহ হচ্ছে। এরকম হয়রানি এখন কলমা ইউনিয়নের নিত্যদিনের ঘটনা। শ্যামল এর বিষয়ে এসব অভিযোগের কথা কে না জানে। কিছুদিন আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সদ্য বিদায়ী) মোছাঃ দিলশাদ জাহান এর কাছে এ বিষয়ে ২ টি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলী হওয়ায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় পাননি।
‎
‎কলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণ দাস বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ চরম পর্যায়ে, আমাকে অনেক ভাতাভূগী মৌখিক ভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন তবে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। উজ্জ্বল দাস এবং বিকাশ দাস নামে ২ জন ব্যাক্তি সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ দিলশাদ জাহানের কাছে জমা দিয়েছে কিন্তু ইউএনও স্যার বদলী জনিত কারণে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সময় পাননি।  আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শ্যামল চন্দ্র দাসের দুর্নীতি আরো চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে।
‎
‎এবিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অষ্টগ্রাম উপজেলায় নতুন জয়েন করেছি এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত হয়নি। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
‎
‎অভিযোগগুলোর তদন্ত ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কলমা ইউনিয়নে ভাতাভোগীদের আর্তনাদ। ভাতা সরকারি, কিন্তু টাকা যায় অন্যের হাতে কলমা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এখন অষ্টগ্রামে আলোচনার সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
‎

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির