“বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতি সৌধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের শ্রদ্ধাঞ্জলি”
মো: শাকিল হোসাইন জাবি প্রতিনিধি:
সাভার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার), সকাল ৭:০০ টা — মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের স্মরণে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রেস ক্লাবের ব্যানারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ক্লাবের সভাপতি ওয়াজহাতুল এবং সাধারণ সম্পাদক তানভির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সম্মানিত অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে উপস্থিত সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি ওয়াজহাতুল ইসলাম বলেন,
“১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় আমাদের প্রতিদিন দেশ ও মানুষের পক্ষে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতি সৌধে এসে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সাধারণ সম্পাদক তানভীর ইবনে মোবারক বলেন,
“বিজয় দিবস কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয় ও চেতনার প্রতীক। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য, ন্যায় ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে কাজ করার শিক্ষা আমরা এই দিন থেকেই পাই।”
সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া
বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতি সৌধে ভোর থেকেই সাধারণ জনগণের ঢল নামে। বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। অনেকেই হাতে জাতীয় পতাকা ও ফুল নিয়ে স্মৃতি সৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
স্মৃতি সৌধে আসা একজন প্রবীণ দর্শনার্থী বলেন,
“আমি নিজে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। আজকের প্রজন্ম যখন এই দিবসকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে, তখন আমাদের আত্মত্যাগ সার্থক মনে হয়।”
একজন তরুণ শিক্ষার্থী জানান,
“বিজয় দিবস আমাদের গর্বের দিন। শহীদদের কারণে আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। এই ইতিহাস জানাটা আমাদের দায়িত্ব।”
আরেকজন দর্শনার্থী বলেন,
“প্রতিবছর বিজয় দিবসে এখানে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। নতুন প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে না যায়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা ও সাধারণ জনগণ একমত পোষণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে অপতথ্য ও অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, আজকের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরকে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
Leave a Reply