“মৌলভীবাজারে স্থানীয় শহীদ দিবস”
রিপন কান্তি ধর, জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার।
২০ ডিসেম্বর ২৭ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে মৌলভীবাজারে পালিত হয় শহীদ দিবস।
এই দিনটি মৌলভীবাজারবাসীর জন্য অত্যন্ত বেদনাময়। বিজয় দিবসের ঠিক চারদিন পর রহস্যজনক এক মাইন বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প। এতে নির্মমভাবে শহীদ হন বিভিন্ন স্থান থেকে এসে আশ্রয় নেয়া ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতি বছর এই দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে জেলার মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তবে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ওই মাইন বিস্ফোরণের রহস্য জানা যায়নি।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় মৌলভীবাজার জেলা। এরপর ১৬ ডিসেম্বর পুরো দেশ শত্রুমুক্ত হলে বিজয়ের আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সারাদেশ। মুক্ত দেশে মুক্তিবাহিনীর হেডকোয়ার্টার স্থাপন করা হয় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিভিন্ন সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে এসে জড়ো হন। সেখানে জমা পড়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা ট্যাংক বিধ্বংসী মাইনও তুলে এনে রাখা হয় ওই বিদ্যালয়ে।
২০ ডিসেম্বর দুপুরবেলা বীর মুক্তিযোদ্ধারা সবেমাত্র খেতে বসেছেন। বাড়ি ফেরা ও সংসারের হাল ধরার পরিকল্পনা নিয়ে মশগুল সবাই। ঠিক সেই সময়েই আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। শক্তিশালী বিস্ফোরণের আঘাতে বিদ্যালয়ের দেয়াল, টিনের চাল ও মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিদ্যালয় মাঠের পাশে সমাধিস্থ করা হয় বিস্ফোরণে শহীদ ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। হতভাগ্য এসব মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং স্থাপন করা হয় শহীদদের নামফলক।
Leave a Reply