“কনকনে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:-
ঘন কুয়াশা আর কনকনে হিমেল ঠান্ডা বাতাসে বিপর্যস্ত মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার জনজীবন। কয়েকদিন ধরে দেখা মিলছে না ঠিকমত সূর্যের আলোর। আর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বাড়ছে,বিপাকে পড়েছে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। সোমবার ২২শে ডিসেম্বর বাতাসের গতিবেগ বাড়তে থাকায় শীত ক্রমেই বাড়ছে। এদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আর বাতাসের গতিবেগ ছিল অনেকটাই বেশ
আবহাওযাবিদদের ভাষায়, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে সেটাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে সেটা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিযাসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে। আর যদি তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আরও নিচে নেমে যায়, তাহলে তাকে তীব্রতর শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সে হিসেবে মাদারীপুরের তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি রয়েছে।
এমন আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। গায়ে মোটা জামা-কাপড় জড়িয়ে তাদের কর্মস্থলে বের হতে দেখা গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
দিনমজুর হারুন শেখ বলেন, শীত বেশি হওয়ার কারনে কাজে যেতে পারিনা,সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ দিন আনি দিন খাই এমন শীত হইলে আমাগো অনেক কষ্ট হয়ে যায়।
কৃষক সিরাজ মোল্লা বলেন, গনকুয়াশার কারনে ফসলে বিভিন্ন পোকা মাকড়ের আক্রমন বাড়ে,এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে ফসলের উতপাদন খরচ বেড়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত শীতের কারনে ঠিকমত জমিতে কাজ করতে পারিনা।
ইটভাটার শ্রমিক আকতার বলেন, আমাদের খুব সকালে উঠে কাজ করতে হয়, শীত বেড়ে গেলে অনেক কষ্ট হয় কাজ করতে। তারপরও কি আর করার, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ শীত যতই বাড়ুক কাজ করতেই হবে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা । শিশু ও বয়স্ক মানুষ সর্দিজ্বর সহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে।
শিবচরের সহকারী কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এই বৈরী আবহাওয়া ও ঘনকুয়াশার কারনে ফসল উতপাদনে মারাত্মক বিগ্ন সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, পদ্মাবেষ্টিত এলাকায় বিশেষ করে চরাঞ্চলে সার্বক্ষণিক কুয়াশাছন্ন রয়েছে। এতে ফসলের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
০১৯৩০২০০৪২৪
Leave a Reply