“বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা, পুরো এলাকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা”
ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জেও কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা পড়েছে। উপজেলার ডাংধরা, চরআমখাওয়া, পাররামরামপুর, হাতিভাঙ্গা, বাহাদুরাবাদ, চিকাজানি, চুকাইবাড়ি, দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়ন সমূহ শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে সকাল-বিকেল ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সবকিছু। সূর্যের দেখা না মেলায় দিনের বেলাও রয়েছে শীতের তীব্রতা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অঞ্চলটির বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ১২–১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। ঘন কুয়াশায় রাস্তার দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়ক পথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং নিত্যদিনের শ্রমজীবী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর, বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থরা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ থেকে ৩৭ কিলোমিটার দুরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না থাকায় ডাংধরা ও চরআমখাওয়া ইউনিয়নের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যহত হচ্ছে। পল্লী চিকিৎসকের কাছেই নিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। কিছু কিছু রোগী পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হচ্ছে।
কেউ কেউ খড়কুটোর আগুন জ্বালিয়ে কিছুটা শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।
এলাকাবাসী বলছে চলতি শৈত্যপ্রবাহে সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার জোরদাবী জানান।
তীব্র শীতের কারণে গবাদিপশু গুলোও রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, বেড়ে চলছে ঠান্ডা জনিত রোগ।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মিজানুর রহমান বলেন – তীব্র শীতের কারণে গবাদিপশুর নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডা জনিত রোগ হচ্ছে। এসময় রাতের বেলায় গবাদিপশুকে চট ছালা গায়ে দিতে হবে, শুকনো এবং গরম জায়গায় রাখতে হবে। কুসুম গরম পানি খাওয়াতে পরামর্শ দেওয়া হলো।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আহসান হাবীব, বলেন শীতের কারণে সর্দি জ্বর ও ঠান্ডা বাসি খাবার খেলে আমাশয় সহ পাতলা পায়খানা হতে পারে। হাসপাতালে ঠান্ডা জনিত রোগী বাড়তে শুরু করেছে।
Leave a Reply