“বিজয় ৭১ সাহিত্য ও গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো নেত্রকোণায়”
পলাশ পাল, জেলা প্রতিনিধি
গত ২৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় এক আরম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য
বিজয় ৭১”ত্রৈমাসিক সাহিত্য ও গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন এবং কবি সম্মাননা অনুষ্ঠানের নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন- সম্মাননা–২০২৫ প্রদান করা হয়েছে – কবি ও সংস্কৃতি কর্মী এনামূল হক পলাশ–কে।গত সন্ধায় নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী আর্য গৃহে নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি অনন্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের মিলনমেলায় পরিপূর্ণ ছিল উক্ত অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। উক্ত অনুষ্ঠানটিতে
বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী–র সভাপতিত্বে এবং কবি সাইফুন্নাহার–এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বিজয় একাত্তর সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ননী গোপাল সরকার। লোকসাহিত্য ও অতীত এবং বর্তমান জনসাধারণের আচার-আচরণ, সংস্কৃতি -নিয়ে
কবি এনামূল হক পলাশ যে তাত্ত্বিক ও গবেষণালব্ধের চর্চাকিত অবস্থান উপস্থাপন করেছেন, তা আমাদের বর্তমান সংস্কৃতির ধারাকে নতুন করে পুন :র্নির্মাণে সহায়ক হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এমন একজন চিন্তাবিদ কে সম্মানিত করতে পেরে আমরা নেত্রকোনা বাসী গর্বিত।”
আলোচনায় আরো অংশ নেন বিশিষ্ট ছড়াকার ও সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম, নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী এ কে আজাদ পিন্টু, কবি কামাল হোসাইন ও চারণ কবি মুকলেছ উদ্দিন।
কবি তানভীর জাহান চৌধুরী তার আলোচনায় বর্তমান সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক দীনতা প্রকট ও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেন তিনি আরো বলেন এই অবস্থায় একমাত্র
“ কবি এনামূল হক পলাশ সেই শূন্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শক্তিমান ও সাহসী লেখক। এই সম্মাননা তার প্রাপ্য স্বীকৃতি।”এনামূল হক পলাশকে সামনে থেকে না দেখলে তার নিরব সুবিশাল কর্মযজ্ঞ অনুধাবন করা যায় না বলে মন্তব্য করেন কবি ও সাহিত্যিক কামাল হোসেন।
নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন তাকে খুঁজে বের করে সম্মানিত করে সত্যিই একটি মহৎ এবং দায়িত্বশীল কাজ সম্পাদন করেছে।”
সম্মাননা গ্রহণ করে সূফী কবি এনামূল হক পলাশ তার গভীর চিন্তাশীল বক্তব্যে বলেন,
“এই ভূখণ্ড বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক স্পেস নিয়ে টিকে আছে। কর্তৃত্ববাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই এখানে সংস্কৃতির ঐক্য স্থির হয়েছে। প্রতীকী অর্থে স্বাধীন ঢাকা বাংলাভাষীদের সাংস্কৃতিক কেবলা হলেও, সেই কেবলার মূল উপাদান আজও জীবিত আছে পূর্ব- মৈমনসিংহে—অর্থাৎ নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের অংশবিশেষে।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত লেখক, কবি ও শ্রোতাদের মাঝে’ বিজয় ৭১-সাহিত্য পত্রিকার পঞ্চম বর্ষের একাদশ সংখ্যা বিতরণ করা হয়।আরো বিভিন্ন জনের মনমুগ্ধকর আলোচনা ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় আয়োজনের শেষ অংশ ।উক্ত অনুষ্ঠানে
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আব্দুস সালাম, নেত্রকোণা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি কনক পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক ও প্রাবন্ধিক খন্দকার অলিউল্লাহ, কবি কল্পনা ঘোষ, রীমি ফেরদৌসী, দেলোয়ার হোসেন মাসুদ,পহেলি দে, গোপালকৃষ্ণ সরকার, ফয়জুল হাসান কবির, সাংবাদিক তানভীর হায়াত খান,আব্দুর রহমান,শিক্ষক ও সাংবাদিক শামীম তালুকদার সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অসংখ্য গুণীজন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে- নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন প্রতি বছর একজন কৃতী কবিকে অর্থমূল্যসহ সম্মাননা প্রদান করে থাকে। বিগত বছরগুলোর মত এ বছরের সম্মানিত কবি এনামূল হক পলাশ। তিনি একাধারে যেমন বাংলা ভাষার প্রতিশ্রুতিশীল কবি,ভাবুক,সুফি সাধক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক,শিশু সাহিত্যিক তেমনি গীতিকার। বিগত দীর্ঘ সময় যাবত
উনার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘অন্তরাশ্রম’ এবং একই নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালিত হয়ে আসছে ।তিনি বিগত ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে ছিলেন অগ্রসারির একজন কলম ও সাংস্কৃতিক যোদ্ধা। সাম্প্রতিক সময়ে জনগণের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে তার সাহসী সক্রিয় ভূমিকা প্রকাশে -তাকে একজন আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত করে তুলেছে।
আয়োজকদের আয়োজনের ওই সন্ধ্যা শুধুই একটি সম্মাননার নয়—এ ছিল -ইতিহাস,ঐতিহ্যও সংস্কৃতির এক দীপ্ত উদ্দীপনাময় উদযাপন।
Leave a Reply