“ধুনটে কমেছে টমেটো চাষাবাদ,তবে বাজারে ভালো দামে কৃষকদের স্বস্তি”
আশেকে এলাহী শিবলী – ধুনট উপজেলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার ধুনটে চলতি শীত মৌসুমে টমেটো বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষাবাদ কম হলেও বাজারে টমেটোর দাম ভালো থাকায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড় টমেটোর হাট পাঁচথুপী (মুস্তিখালী) হাট বেশ জমে উঠেছে। গত মৌসুমে টমেটো চাষে লোকসানের অভিযোগ উঠলেও এবার কৃষক ব্যবসায়ী উভয়ই টমেটো বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। এই হাটে প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার টমেটো বেচাকেনা হয়। স্থানীয় কৃষকরা মাঠ থেকে সংগ্রহ করা টমেটো হাটে এনে বিক্রি করেন। পাইকারি ক্রেতারা ক্রয়কৃত টমেটো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে বানিজ্যিক ভাবে লাভবান হয়ে থাকেন।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার কৃষক অন্তত ১৩০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। যা গত বছর চাষ হয়েছিল ছিল ২২০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টরে ৩৫ মেট্রিক টন ধরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও এ বছর তা কমিয়ে নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টনে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চলতি মৌসুমে টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে গড়ে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা হিসাবে উৎপাদিত টমেটোর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে অন্তত ৩২ কোটি টাকা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে পাঁচথুপী হাটে আকারভেদে পাইকারি দরে প্রতি মণ টমেটো ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। বাজারে টমেটোর আমদানি গত বছরের তুলনায় কম, তবুও ভালো দামের কারণে কৃষকদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
টমেটো চাষিরা জানান, গত মৌসুমে টমেটোর দাম কম থাকায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি চলতি মৌসুমের শুরুতে টানা বর্ষণের কারণে অনেক কৃষক টমেটো চাষে আগ্রহ হারায়। ফলে এ বছর চাষাবাদের পরিমাণ অনেকটা কম। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচথুপী হাটে টমেটো আসতে দেখা গেছে। উপজেলার পাঁচথুপী, পীরহাটি, শ্যামগাঁতী, কালেরপাড়া, অলোয়া, গোপালনগর, খাদুলী ও নিমগাছি গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে টমেটো এনে এই হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত টমেটো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
খাদুলী গ্রামের কৃষক লাবু শেখ বলেন, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে টমেটো চাষ করেছি। কৃষি অফিসের পরামর্শে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। দামও গত বছরের তুলনায় ভালো। একই গ্রামের প্রান্তিক চাষি শাহজাহান সাজা বলেন, শুরুর দিকে বৃষ্টির কারণে টমেটোর আকৃতি খুব বড় হয়নি। তবে ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বর্তমান পাইকারি বাজার দরে আমরা সন্তুষ্ট।
পাঁচথুপী হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এখান থেকে টমেটো সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠাতে সমস্যা হয় না। পঁচনশীল হওয়ায় আমরা কিছুটা কাঁচা-পাকা টমেটো সংগ্রহ করি। এছাড়াও হাটে কোন খাজনা দিতে হয় না। গত বছর এই সময়ে প্রতি হাটে ২ হাজার মণের বেশি টমেটো উঠলেও এবার উঠছে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬০০ মণ। তবে কেজি প্রতি দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা থাকায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের শীতকালীন টমেটো চাষে লাভের মুখ দেখছেন। টমেটো ক্ষেতে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে নিরাপদ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply