“BYO Development Foundation-এর উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ”
মো: শাকিল হোসাইন জাবি প্রতিনিধি:
যুবনেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংগঠন BYO Development Foundation-এর উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের ভিতরে ও আশপাশের এলাকায় শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি এবং আজ শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
BYO Development Foundation একটি যুবনেতৃত্বাধীন (Youth-Led) অলাভজনক সংস্থা, যেখানে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সকল কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়। যুবকরাই এই ফাউন্ডেশনের মূল শক্তি, চালিকাশক্তি এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রধান ভিত্তি। সংগঠনটি মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সীমিত পরিসরে দান ও অনুদান গ্রহণ করে থাকে এবং একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীদার সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে, যাতে কার্যক্রমের প্রভাব ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জনাব জিহাদ আকান্দ, যিনি যুবসমাজের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছেন।
কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের বিপরীতে ডেইরি গেট সংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচে শুয়ে থাকা এক মধ্যবয়স্ক শীতবস্ত্রহীন পুরুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। একই স্থানের একটু দূরেই আরেকজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ শুধুমাত্র একটি পাতলা কম্বল নিয়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে শুয়ে ছিলেন—তাঁর মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়।
আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে এক শীতার্ত শিশুর হাতে কম্বল তুলে দিলে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন ভিক্ষুক ও অসহায় মানুষের মাঝেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
কম্বল গ্রহণকারী শীতার্ত ব্যক্তিরা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানান,
“এই প্রচণ্ড শীতে আমাদের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই কম্বল আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
আরেকজন বলেন,
“আল্লাহ যেন এই সংগঠনকে দীর্ঘায়ু ও সফলতা দান করেন। সমাজে এমন মানবিক সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।”
এক শীতার্ত শিশু জানায়,
“কম্বল পেয়ে এখন আর এত ঠান্ডা লাগছে না, খুব ভালো লাগছে।”
এই মানবিক কার্যক্রমে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মো: শাকিল হোসাইন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক। মো: শাকিল হোসাইন বর্তমানে BYO Development Foundation-এর স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) হিসেবে কাজ করছেন।
স্থানীয়ভাবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করেন, BYO Development Foundation-এর মতো সংগঠন ও সমাজের সামর্থবান ব্যক্তি যদি আরও বেশি এগিয়ে আসে, তাহলে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।
মানবিক দায়বদ্ধতা ও যুবসমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশার আলো জাগাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply