“লাকসাম রেলওয়ে পুলিশের সাফল্য: ৮ মাসে মাদক ও চোরাচালানের ২০ মামলা, গ্রেফতার ২০”
হৃদয় চন্দ্র দাস | বিশেষ প্রতিনিধি:
কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন লাকসামকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আট মাসের অভিযানে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগে মোট ২০টি মামলা দায়ের এবং ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা, চোলাই মদ, ভারতীয় কাফ সিরাপ, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন চোরাচালানকৃত পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাদকের ধরন ও পরিমাণের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানকৃত ভারতীয় পণ্য উদ্ধারের ঘটনায় দি কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথক দুটি মাদক মামলা দায়ের করে পুলিশ। এ সময় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোট ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
মার্চ ও এপ্রিল মাসে মাদক কিংবা চোরাচালানবিরোধী অভিযানে কোনো পণ্য উদ্ধারের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়নি।
তবে মে মাস থেকে অভিযানের তৎপরতা বাড়তে থাকে। ওই মাসে চারটি মাদক মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ১০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা ও আট পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
জুন মাসে ছয়টি মাদক মামলা দায়েরের পাশাপাশি একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে রেলওয়ে পুলিশ।
জুলাই মাসে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় পুলিশ। এ মাসে পাঁচটি মাদক মামলা ও একটি চোরাচালান মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার করা হয় দুইজনকে। অভিযানে ১২০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ (WENREX), ২৫০ প্যাকেট ভারতীয় চকলেট, ১৭ কেজি গাঁজা, ৩০ লিটার চোলাই মদ এবং ১৪ বোতল প্রিমিয়ার গ্রেইন হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।
আগস্ট মাসে পাঁচটি মাদক মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ৫২ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ৩০ লিটার চোলাই মদ ও ৩৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সেপ্টেম্বর মাসেও অভিযান অব্যাহত থাকে। এ মাসে পাঁচটি মাদক ও একটি চোরাচালান মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার করা হয় পাঁচজনকে। অভিযানে ২১ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ৭৩৬ বোতল ভারতীয় ‘ইমামি ৭ অয়েলস ইন ওয়ান’ চুলের তেল এবং ১০৭ বোতল ভারতীয় অলিভ ও বডি অয়েল উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ অক্টোবর মাসে একটি মাদক মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।
মাদকের ভয়াবহতা রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।
তিনি বলেন, “মাদকের ব্যাপারে কোনো আপস নেই। আমাদের নীতি স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে মাদক চক্রকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে হবে।
লাকসাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সেলিম বলেন, “লাকসামের সংবাদকর্মীরা সবসময় সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সজাগ রয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে সংবাদকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের সার্বিক সাফল্য প্রসঙ্গে লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব চন্দ্র কর বলেন, “রেলপথকে ব্যবহার করে যেন সীমান্ত এলাকা থেকে কোনো মাদক বা চোরাচালানের পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। মাদকের রুটগুলো চিহ্নিত করে আমাদের কঠোর অভিযান, নিয়মিত তল্লাশি এবং গোয়েন্দা নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে রেলপথকে অপরাধীদের চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply