“খুলনায় একদিনেই তিন বার্তা — মোংলা বন্দরে উন্নয়ন, বাগেরহাটে দোয়া, স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ির উৎসব:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান”
খুলনা জেলা প্রতিবেদক:
সকালটা ছিল মোংলার, দুপুরটা খুলনার আর বিকেলটা ছিল হাজারো শিশু-কিশোরের। বৃহস্পতিবার এভাবেই একদিনে তিনটি জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আর শিশুদের ক্রীড়া উৎসবকে এক সুতোয় গেঁথে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এক সফর শেষে বিকেলে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরে গেছেন তিনি। সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই খুলনা-মোংলা-বাগেরহাট জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
দিনের শুরুটা হয় মোংলা দিয়ে। সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোংলা বন্দরে দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জেটি দুটি চালু হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
মোংলা থেকে এরপর বাগেরহাটে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন। মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
জিয়ারত শেষে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউসে এসে কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি করেন।
বিকেল: স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ির জয়জয়কার।
সফরের সবচেয়ে প্রাণবন্ত মুহূর্তটি ছিল খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে স্টেডিয়ামে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিকেল ৪টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-সিজন ২’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
এসময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে খুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন সরকারপ্রধান। হাজারো শিশু-কিশোর হাত নেড়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়, তিনিও হাসিমুখে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক আনন্দমেলায়।
এবারের আসরে আগের ৮টি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ইভেন্টে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দ্বিতীয় আসরে অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী।
খুলনা সেজেছিল নতুন সাজে
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও দেয়াল সাজানো হয় দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সুন্দরবন ও মোংলা বন্দরের নানা চিত্র দিয়ে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা।
বিদায়: প্রতিশ্রুতি রেখে ঢাকায় ফেরা
সব কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলিকপ্টারে খুলনা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই সফরে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর খুলনাবাসীর মনে রেখে গেলেন এক উৎসবমুখর বিকেলের স্মৃতি — যেখানে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না শুধু রাষ্ট্রের প্রধান হয়ে, ছিলেন শিশুদের আপনজন হয়ে।
মোক্তার হোসেন।
খুলনা।
Leave a Reply