“শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে লিফট ও বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রভোস্ট কক্ষ তালাবদ্ধ”
মোঃ শাকিল হোসাইন, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে লিফট ও বিদ্যুৎ সমস্যাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ করে হলের কয়েকটি লিফট ও বিভিন্ন অংশের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশেষ করে উচ্চতলার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
হলের আবাসিক ৫১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, “গতকাল রাত আনুমানিক ২টার দিকে হঠাৎ লিফট এবং রুমের সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জেগে ছিলাম, তখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। শুধু ফ্যান চলছিল।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা ৫ এমভিএ থেকে ১০ এমভিএতে উন্নীত করার কাজের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
তাদের আরও অভিযোগ, দুপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর হলের জেনারেটরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে লিফট, ফ্যান ও লাইটসহ হলের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে যাতে শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম সুবিধা পায়, সে জন্যই জেনারেটর রাখা হয়েছে। কিন্তু আমরা যারা উপরতলায় থাকি, তাদের অসহনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়। কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, জেনারেটরের তেল নেই।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে হলের একাধিক লিফট অচল অবস্থায় রয়েছে। ১০ তলা বিশিষ্ট এই হলে নিয়মিতভাবে মাত্র দুই থেকে তিনটি লিফট সচল রাখা হয়। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বলেন, “আমার ৯১৯ নম্বর রুমের বারান্দার লাইট দীর্ঘদিন ধরে শর্ট সার্কিট হয়ে আছে। লাইন বন্ধ করে রাখা হয়েছে, কিন্তু মেরামত করা হয়নি। এছাড়া ৯ তলার বি ব্লকের মাঝের ওয়াশরুমে কয়েকবার মেরামতের পরও সমস্যা রয়ে গেছে। ওয়াশরুমের সুইচবোর্ডেও শর্ট সার্কিট রয়েছে। দুটি লাইট ছাড়া অন্য সুইচ চাপলে স্পার্ক হয় এবং সব লাইট নিভে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।”
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তাদের দাবি, লিফট ও প্রয়োজনীয় আলোকসুবিধা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং ১০ তলা আবাসিক ভবনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচলের জন্য এগুলো মৌলিক প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের বেলায় লিফট ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, সমস্যার সূত্রপাতের সময় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা হলে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত লিফট ও জেনারেটর অপারেটর ইমদাদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিস কর্মকর্তা জিতু স্যার জানিয়েছেন, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত জেনারেটর চালু থাকবে। এরপর এটি বন্ধ রাখা হবে।”
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জেনারেটর বন্ধের কারণ ও চলমান সমস্যাগুলো নিয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি বাইরে এসে কথা বলতে রাজি হননি। বরং কর্মচারীদের মাধ্যমে জানিয়ে দেন, কথা বলতে হলে তার কক্ষে গিয়ে কথা বলতে হবে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের রুম তালাবদ্ধ করেন।এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জেনারেটর চালু করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, সাময়িক সমাধানের পরিবর্তে লিফট, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
হলের প্রভোস্টকে ফোন করলে তিনি বলেন ” আমি মিটিংয়ে আছি পরে কথা হবে।”
Leave a Reply