“২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের বিশাল জনসভা: ‘১২ ফেব্রুয়ারি হবে জুলুমের জবাব”
কে,এম,জাকির রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি|
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রৌমারীর শৌলমারী এম আর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক তাঁর শক্ত অবস্থানের কথা জানান দেন। ১০ ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি প্রতিপক্ষের সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সমালোচকদের পায়ের নিচে মাটি নেই: মুস্তাফিজুর রহমান
বক্তৃতার শুরুতেই আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “যারা আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করেছিল, তারা আজ পলাতক। আমরা অন্য দলের মতো কেবল মুখরোচক সমালোচনা করি না। যারা আমাদের বিতাড়িত করার স্বপ্ন দেখেছিল, আজ তাদের পায়ের নিচেই মাটি নেই। ২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসন হবে ইনশাআল্লাহ আন্দোলনের বিজয়ের প্রতীক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তাঁদের পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রমূলক মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইন না জেনেই আমার আত্মীয়কে দিয়ে মামলা করানো হয়েছে, যা ধোপে টেকেনি। ১২ই ফেব্রুয়ারির পর আল্লাহ সবকিছুর বিচার করবেন।”
জোট নেতাদের হুঁশিয়ারি ও আহ্বান
জনসভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও কড়া ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন:
রৌমারী উপজেলা আমির মোঃ হায়দার আলী: তিনি বলেন, “নির্বাচন এলে অনেকে টুপি পরে উমরাহ করেন আর সস্তা চালের লোভ দেখান। কিন্তু ৫৪ বছরের ইতিহাস কেবল দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের। এবার নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন।”
রাজিবপুর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ: তিনি ১২ তারিখ ২৮টি ভোটকেন্দ্রে বিজয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
মজলুম সংগঠন ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন: তিনি বিগত বছরগুলোতে সুইস ব্যাংকে টাকা পাচারের তথ্য তুলে ধরে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
জুলাই যোদ্ধা জাবেদ বাবু: শরীরে ১৭০টি বুলেটের ক্ষত নিয়ে সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য রক্ত দিয়েছি, এখন ব্যালটের মাধ্যমে সেই সংস্কার পূর্ণ করতে হবে।”
নির্বাচনী অঙ্গীকার
বক্তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশবিরোধী শত্রুদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। বিশেষ করে বিজয়ী হলে এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন মাওলানা মোখছেদ। সভায় বক্তারা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা, হ্যাঁ ভোট এবং জোটের প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফ কায়েমের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
এনসিপির রৌমারী সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম এবং রাসেল মাহমুদসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উক্ত জনসভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
Leave a Reply