“দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য: জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব হুমকি”
“উপজেলা প্রতিনিধি মতলব, চাঁদপুর”
চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ঘিলাতলী আদর্শ বাজারে মেদ উত্তীর্ণর কেক বিক্রির অভিযোগ।
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম। সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য বিশুদ্ধ ও মানসম্মত খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনের ঘটনা দেখা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি।
মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য খাওয়ার ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, বমি, পেটের বিভিন্ন জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি। অথচ অনেক ভোক্তা অসচেতনতার কারণে কিংবা পণ্যের গায়ে থাকা মেয়াদের তারিখ পরীক্ষা না করেই এসব পণ্য কিনে ফেলেন।
দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখা শুধু অনৈতিক নয়, এটি ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ব্যবসার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা। সাময়িক লাভের আশায় মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়মিত বাজার তদারকি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ অনিয়ম অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো পণ্য কেনার আগে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করা, সন্দেহজনক পণ্য এড়িয়ে চলা এবং অনিয়ম চোখে পড়লে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, সচেতন ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই জনস্বার্থে দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য রাখা ও বিক্রির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
প্রয়োজনে অভিযোগ করার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হট লাইন: ১৬১২১ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।
Leave a Reply